ফুটবল মাঠে অনবদ্য মোহামেদ সালাহ। লিভারপুলকে ষষ্ঠবারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা এনে দিতে দারুণ অবদান রেখেছেন মিশরীয় ফরোয়ার্ড। কেবল মাঠেই ক্যারিশমা থামছে না সালাহর। তার চারিত্রিক গুণাবলিতে মুগ্ধ হয়ে নিজেদের স্বভাব পাল্টাচ্ছে লিভারপুলের বাসিন্দারাও!
স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিবাসন নীতি নিয়ে এক গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০১৭ সালে সালাহ লিভারপুলে যোগ দেয়ার পর থেকে ১৮.৯ শতাংশ হারে কমে এসেছে মুসলিমদের প্রতি স্থানীয়দের ‘হেট ক্রাইম’। অথচ অতীতে অনেক চেষ্টার পরও এই সমস্যার সমাধান করতে না পারায় বেশ দুশ্চিন্তায় ছিল লিভারপুল কাউন্টি প্রশাসন!
‘এভাবে হেট ক্রাইম কমে যাওয়ার হারটা আশ্চর্যজনকভাবে এতটাই যে, এককভাবে কিছুতেই এই হারটা কমানো যেত না। এখন এটা সুনিশ্চিতভাবে নির্দেশ করছে, সালাহর উত্থানে লিভারপুল কাউন্টিতে হেট ক্রাইম আশ্চর্যজনক হারে কমছে।’ গবেষণার সূত্র ধরে এমনটাই উঠে এসেছে সংবাদমাধ্যমে।
শুধু হেট ক্রাইমই নয়, মুসলিম বিরোধী মন্তব্য করাও অনেক কমিয়ে দিয়েছে লিভারপুলের বাসিন্দারা। প্রিমিয়ার লিগের অন্যান্য বড় ক্লাবের সমর্থকরা যে হারে মুসলিম বিদ্বেষী টুইট করে থাকেন, লিভারপুলের সমর্থকরা সেই হারটা ৭.৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে এনেছেন ৩.৪ শতাংশতে। এমনকি সালাহর বন্দনায় তার বিখ্যাত উক্তি, ‘এ গিফট ফ্রম আল্লাহ’কে দিয়ে কোরাসও গায় অলরেড সমর্থকেরা।
১ কোটি ৫০ লাখ ফুটবল ভক্তের টুইটের মধ্য থেকে ৮ হাজার লিভারপুল ভক্তের টুইট বেছে নিয়ে প্রতিবেদনটিতে লেখা হয়েছে, সালাহ হচ্ছেন এমন একজন মহাতারকা যিনি সবার সঙ্গেই মানানসই, ক্যারিশম্যাটিক পরিবারপ্রিয় মানুষ। সালাহ তার মুসলিম পরিচয়ে ভীত নন। জনসম্মুখে ভাগ্য নিয়ে কথা বলতে ভালোবাসেন।
সবশেষে প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, ‘সালাহ ইফেক্টে’ সত্যিকার অর্থে কাঁপছে লিভারপুলের সমর্থকেরা। মিশরের রাজার টানা দ্বিতীয় গোল্ডেন বুটে যেমন উত্তেজিত লিভারপুলের সমর্থকেরা, তেমনি মাঠের বাইরে তার আচরণে এতটাই মুগ্ধ যে বহু প্রচলিত ধ্যান-ধারণা এক নিমিষেই বদলে ফেলতে রাজী এই সমর্থকেরা!







