ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের উপর কয়েক দফা হামলার পর সমালোচনার মুখে থাকলেও পুরো দেশেই মারমুখী অবস্থানে রয়েছে ছাত্রলীগ। বুধবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং সিলেটসহ আরও কিছু জায়গায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এই সহযোগী সংগঠন।
মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা ৪ দফা দাবিতে সকাল থেকে আন্দোলনের পর ঢাবি উপাচার্যের কার্যালয় ঘেরাও করেছিল। দুপুর ৩টার দিকে হঠাৎ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের নেতৃত্বে হামলা চালানো হয় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর। নিপীড়নবিরোধী শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এই হামলায় আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের জরুরি বিভাগে ভর্তি হয় ২৩ শিক্ষার্থী। এসময় বিভিন্ন হল থেকে আসা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের টহল দিতে দেখা যায়।
সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে সারাদেশে বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেয় প্রগতিশীল ছাত্রজোট। তাদের এই কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার চাকসু ভবনের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি লাইব্রেরি ভবনের সামনে পৌঁছানোর পর ছাত্রলীগের কর্মীরা দেশিয় লাঠিসোটা নিয়ে মিছিলের ওপর চড়াও হয়।
একইদিন দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সিলেটের এমসি কলেজের শহীদ মিনারে ছাত্রফ্রন্টের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালি ও সমাবেশের প্রস্তুতিকালে হামলা করে ছাত্রলীগ। এ ঘটনায় ছাত্রলীগের হামলায় কলেজ ছাত্রফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন, আহ্বায়ক সাদিয়া নোশিন তাসনিম নগর শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।
এমসি কলেজ ছাত্রফ্রন্টের আহ্বায়ক সাদিয়া তাসনিম নওশীন অভিযোগ করেন, টিলাগড়ের রঞ্জিত গ্রুপের অনুসারী কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী দেলোয়ার, শামীম, সৌরভ, রাসেলসহ ১০-১৫ জন কর্মী এ হামলা চালায়।
তবে প্রতিপক্ষ তো বটেই, ছাত্রলীগের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না নিজ দলের নেতাকর্মীরাও। ২৩ জানুয়ারি রাতে রুয়েটে র্যাগ এবং আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের দুই পক্ষ। এতে আহত হয় ১০-১২ জন।
এর আগে ১২ জানুয়ারি ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাকদের সমর্থকদের সংঘর্ষে বন্ধ হয়ে যায় পাবনা মেডিকেল কলেজ। এ ঘটনায় আহত হয় ১০ জন।
অন্যদিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজেও ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষে তৌফিকুল ইসলাম নামে এক ছাত্র আইসিইউতে আছেন ৫ জানুয়ারি থেকে। এই ঘটনায় আহত হয় ১০ ছাত্র।
এছাড়া গতমাসের ছয় তারিখে রাজশাহীর আইএইচটিতে ছাত্রীদের উপর হামলা করে ছাত্রলীগ। কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত ছাত্রীদের পিটিয়ে পাঁচ ছাত্রীকে আহত করে তারা। এই ঘটনায় বন্ধ হয়ে যায় আইএইচটি ক্যাম্পাস।








