অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অনুসন্ধানের মধ্যে আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনকে আগাম জামিন দিয়ে জারি করা রুল খারিজ করে দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ রায় দেয়।
এ রায়ের ফলে বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের আগাম জামিন বাতিল হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
আদালতে দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান। আর বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের আইনজীবী মইনুল হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রোনা নাহরীন ও এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।
জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ২০১০ সালের ১৮ জুলাই সম্পদের হিসাব চেয়ে আপীল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মো. জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে নোটিস দেয় দুদক।
পরে দুদকের দেওয়া নোটিসের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি জয়নুল আবেদীন ২০১০ সালের ২৫ জুলাই হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করেছিলেন।
সে রিটের ওপর শুনানি নিয়ে সে সময় বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহাব মিঞা ও বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ বিষয়টি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ করে দেয়।
পরে দুদক তাকে আরও একটি নোটিশ দেয়। প্রয়োজনীয় তথ্যসহ তিনি ওই নোটিসের জবাব দেন।
কিন্তু এর সাত বছর পর গত বছরের জানুয়ারিতে সাবেক এ বিচারপতির বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নামে দুদক।
এরই মধ্যে অনুসন্ধানের স্বার্থেই সুপ্রীম কোর্টের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চেয়ে গত বছরের ২ মার্চ চিঠি দেয় দুদক।
এর জবাবে ওই বছরের ২৮ এপ্রিল আপীল বিভাগের তৎকালীণ অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, ‘সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে দুদকের কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ সমীচীন হবে না বলে সুপ্রীম কোর্ট মনে করে।’
কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দুর্নীতি বা অন্য কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে, সুপ্রীম কোর্টের পরামর্শ ছাড়া তার প্রাথমিক তদন্ত বা অনুসন্ধান না করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের ওই চিঠিতে।
সুপ্রিম কোর্টের এ ধরণের চিঠি নিয়ে সংসদ অধিবেশনে সুপ্রিম কোর্টের ওই চিঠির কড়া সমালোচনা হয়।
পরে জুনে একটি দৈনিক পত্রিকায় এ বিচারপতির জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও দুদকের অনুসন্ধান সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশ হলে গ্রেপ্তার ও হয়রানির আশঙ্কা থেকে তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন।
এরপর গত বছরের ১০ জুলাই হাইকোর্ট তাকে এ অভিযোগের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগাম জামিন দেয় এবং নিয়মিত জামিন দেওয়া প্রশ্নে রুল জারি করে। সে রুলই মঙ্গলবার খারিজ করে দিয়েছেন আদালত।






