পাঁচদিন ব্যাপী পূজার অনুষ্ঠান শেষে সোমবার রাত ১০টায় এ বছরের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে কেরালার সাবারিমালা মন্দিরের দরজা। শেষ দিনে গণমাধ্যমের ওপর হামলা হতে পারে, এমন খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত সংবাদকর্মীদের চলে যেতে বলেছে পুলিশ।
মন্দির কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে স্থানীয় সরকারের কাছে চিঠি লিখে বলেছে, বছরের পর বছর ধরে চলে আসা কোনো প্রথা যদি ভাঙা হয় তবে তক্ষুণি মন্দিরে তালা ঝুলিয়ে দেয়া হবে।
শুধু বাইরে নয়, মন্দিরের ভেতরে হাজারখানেকেরও বেশি পুরুষ ভক্ত অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মন্দির কর্তৃপক্ষ হুমকি দিয়েছে, ৫০ বছরের কম বয়সী নারীদের সাবারিমালা মন্দিরে ঢোকা ঠেকাতে প্রয়োজনে এই ভক্তরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারে।
শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে কেরালার বিখ্যাত সাবারিমালা মন্দিরে ঋতুমতী নারীর (১০ থেকে ৫০ বছর বয়স) প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ ছিল। স্থানীয়দের বিশ্বাস, ওই মন্দিরের উপাস্য দেবী আয়াপ্পা একজন চিরকুমারী এবং পিরিয়ড হওয়ার বয়স হয়েছে এমন সব নারী ‘অপবিত্র’।
এ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে গত ২৮ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের দেয়া রায়ে ৫০ বছর বয়স পর্যন্ত নারী উপাসকদের প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা বাতিল করা হয়।
এর প্রায় এক মাস পর ১৬ অক্টোবর প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে নারী ভক্তদের জন্য বিকেল ৫টা থেকে খুলে দেয়া হয় মন্দিরের দরজা। কিন্তু মন্দিরের ভক্তরা সুপ্রিম কোর্টের রায় মেনে না নিয়ে সেদিন বিকেল ৩টার দিক থেকেই সাবারিমালার পথ আটকে মিছিল শুরু করে।
‘নিষিদ্ধ’ বয়সের নারীদের হয়রানি করে মন্দিরে প্রবেশ আটকানোর ঘটনায় ভক্তদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার জেরে ওইদিন মন্দির বন্ধ করে দেয়া হয়। পরদিনও একই ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রহরা বাড়ানো হলেও তখন থেকেই উত্তপ্ত ওই এলাকার পরিবেশ। এর মধ্যেই ১৮ অক্টোবর শুরু হয় সাবারিমালা মন্দিরের উপাস্য দেবী আয়াপ্পার পাঁচদিন ব্যাপী পূজা।
সাবারিমালা মন্দির বছরে মাত্র ১২৭ দিন খোলা থাকে। শেষ পাঁচদিনে বিশেষ পূজার আয়োজন হয়। ঘন বনের ভেতর দিয়ে একটি মাত্র পথেই শুধু সেখানে পৌঁছানো সম্ভব। পূজা শেষে সোমবার থেকে মন্দিরটি আবারও বন্ধ থাকবে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, গত চারদিনে ১০ থেকে ৫০ বছর বয়সসীমার ৯ জন নারীকে মন্দিরে যাওয়ার পথ থেকে ফিরিয়ে দিয়েছে ঐতিহ্যবাহী প্রথায় বিশ্বাসী আন্দোলনকারী ভক্তরা। এদের মধ্যে রোববার ৪৭ বছর বয়সী এক নারী বিক্ষোভকারীদের মাঝে পড়ে তাদের দুর্ব্যবহার আর প্রশ্নবাণে জর্জরিত হয়ে ভয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কেরালা রাজ্য বিজেপি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রোববার মাসব্যাপী প্রতিবাদ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। তবে চলমান বিক্ষোভকে তীব্রতা দিতে নিজেদের দলীয় কর্মীকে মন্দিরে মোতায়েনের কথা অস্বীকার করেছে দলটি।







