দুই বছর আগে প্রথমবারের মতো সাফের ফাইনালে উঠে ভারতের কাছে হয়েছিল স্বপ্নভঙ্গ। আরেকবার সেই কষ্ট পেতে চায় না বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। লাল-সবুজ নারী দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন জানালেন, এবারের লক্ষ্যটা সেরা হওয়ার।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ভবনে হয়েছে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ড্র। গ্রুপ ‘এ’তে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল, ভুটান ও পাকিস্তান। আর গ্রুপ ‘বি’তে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ভারতের সঙ্গী মালদ্বীপ ও শ্রীলঙ্কা।
একই সময়ে ড্র হয়েছে ছেলেদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ চ্যাম্পিয়নশিপেরও। গ্রুপ ‘এ’তে বাংলাদেশের কিশোররা প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে মালদ্বীপ, পাকিস্তান ও নেপালকে। গ্রুপ ‘বি’তে ভারত লড়বে ভুটান ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।
ছেলেদের ভেন্যু নেপালের রাজধানী কাঠমুন্ডু ঠিক হলেও নারীদের ভেন্যু এখনও ঠিক হয়নি। তবে এ সপ্তাহেই হওয়ার কথা রয়েছে। শ্রীলঙ্কা অথবা নেপালের মধ্যে একটি দেশ হবে এবারের মেয়েদের সাফ টুর্নামেন্টের স্বাগতিক। স্বাগতিক হওয়ার লড়াইয়ে বাংলাদেশের নাম শোনা গেলেও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের কারণে সে সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছেন সাফের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল হক হেলাল।
আগামী ১৭ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২৬ ডিসেম্বর শেষ হবে মেয়েদের সাফ চ্যাম্পিয়নশীপ। আর কিশোরদের সাফ ২৫ অক্টোবর শুরু হয়ে শেষ হবে ৩ নভেম্বর।
২০১৬ সালে শিলিগুড়িতে হওয়া সাফের দলে খেলেছেন মারিয়া মান্ডা, শামসুন্নাহার, আনাই মগিনিরা। সেবারের দলে বেশিরভাগ খেলোয়াড়ের বয়সই ছিল ১৩ থেকে ১৫’র মধ্যে। সেই আসরের দুই বছর পর বাংলাদেশের মেয়েদের বয়স ও অভিজ্ঞতায় পরিপক্বতার কথাই ফুটে উঠল কোচ ছোটনের কণ্ঠে। ভাগ্যকে পাশে পেলে তার শিষ্যরা ভালো খেলবে বলেই বিশ্বাস তার।
‘আপনারা যদি দেখেন, ২০১৬ সালে শিলিগুড়িতে মারিয়া, শামসুন্নাহার, আনুচিংদের বয়স ছিল ১৩। জাতীয় দলে একদমই নতুন ছিল। পরের দুই বছরে তারা কয়েকটি দেশে গিয়ে খেলেছে, ক্যাম্পিং করেছে। কয়েকটি শিরোপাও জিতেছে।’
‘সেবার ভারতের বিপক্ষে আমরা গ্রুপপর্বে ড্র করেছিলাম। ফাইনালেও প্রথমার্ধ পর্যন্ত ১-১ গোলে সমতায় ছিলাম। সমানতালে খেলছিলাম। এক পেনাল্টি আমাদের হাত থেকে খেলা কেড়ে নিয়েছিল। আমি মনে করি ফলাফলের পাশাপাশি ভাগ্যের একটা ব্যাপার থাকে। ভুটানে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে দুর্দান্ত খেলেও এক গোলের কারণে ফাইনালে হেরে গেলাম। তবে মেয়েরা যে ভালো ফুটবল খেলবে সে বিষয়ে নিশ্চিত।’ যোগ করেন ছোটন।
সাফের মূল মঞ্চে নামার আগে প্রস্তুতি হিসেবে আরেকটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট পেয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৬ মেয়েরা। ঘরের মাঠে ১৫ সেপ্টেম্বর শুরু হচ্ছে এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্ব। ১৭ সেপ্টেম্বর বাহরাইনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে সাফ ও এএফসি বাছাইপর্বের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্টিই ঝরলও অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার কণ্ঠে।
‘আমরা সেভাবেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্যই থাকবে ভালো খেলা ও মূল পর্বে উত্তীর্ণ হওয়া। আমরা প্রথমে এএফসি লক্ষ্য করেই এগোচ্ছি।’








