তার ফর্ম নিয়ে প্রশ্ন জোরদার। শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েছেন। সফরের মাঝ পথে দেশে ফিরে আসা না-আসা নাটক-আলোচনা নিয়েও সরগরম ছিল ক্রিকেটাঙ্গন। দলে শক্তপোক্ত জায়গাটা যখন নড়বড়ে, মাহমুদউল্লাহ নীরবে নিভৃতেই সব সয়ে গেছেন। হয়তো ব্যাটেই সব সমালোচনার জবাব দেয়ার প্রতিজ্ঞা করেছিলেন। দলের বিপদের মুখে হাল ধরে শুক্রবার সেই জবাবটাই কি দিচ্ছিলেন এই অলরাউন্ডার?
মাহমুদউল্লাহ হয়তো মুখে কিছু বলবেন না এবারও, সঙ্গে ৭ রানের অপেক্ষাটা তাকে পোড়াচ্ছে কিনা সেটি জানারও যে উপায় নেই। কিন্তু আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আর সাতটা রান করার সুযোগ পেলে কাঁধ থেকে বোঝার ভার খানিকটা নিশ্চয় নেমে যেত তার। সাত রানের জন্যই যে ৭ মাস পর একটা ওয়ানডে ফিফটি হয়নি। অপেক্ষাটা দীর্ঘই হয়েছে।
দলের বিপদে প্রতিরোধ গড়ে একটা ফিফটি তুলে সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার সব বন্দোবস্তই সেরে ফেলেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু বেরসিক বৃষ্টি বাঁধা হয়ে দাঁড়াল। পরে ম্যাচটাই পরিত্যক্ত। কাঙ্ক্ষিত অর্ধশতক না পাওয়ার দিনে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকতে হল মেলাহাইডে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচে।
স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ক্রিজে যখন এলেন, তখন ৭০ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে ধুঁকছে টাইগাররা। মাহমুদউল্লাহ আসলেন, ধীরে ধীরে ইনিংস গড়লেন। তামিম ইকবালকে সঙ্গ দিয়ে দলকে টেনে তুললেন। গড়লেন ৮৭ রানের জুটি। তাতে ৫৬ বলে ৪ চার এবং এক ছয়ে সাজালেন ইনিংসটি। আরও একবার প্রমাণ দিলেন ‘ফর্ম নয়, ক্লাসটাই আসল’।
দারুণ ইনিংসটির আগে মাহমুদউল্লাহ ছয় ম্যাচ খেলে পাঁচ ইনিংসে তুলেছেন যথাক্রমে ৬, ০, ১, ১৩* এবং ৭ রান করে। দুই অংকের ঘর ছুঁয়েছেন মাত্র একবার। সাত মাস আগে সর্বশেষ ওয়ানডে অর্ধশতকটি ছিল তার, ৭৫ রানের। গত অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে। পরে নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা সফরে ছিলেন সুপারফ্লপ।
ফর্ম নিয়ে প্রশ্নের মুখেই ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে দারুণ খেলেছেন। আবাহনীর হয়ে চার ম্যাচে হাঁকিয়েছেন তিনটি অর্ধশতক। আরেক ম্যাচে ব্রাদার্সের বিপক্ষে অপরাজিত ছিলেন ৪৯ রানে। নিউজিল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চলতি ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চূড়ান্ত দলে মাহমুদউল্লাহকে জায়গা দিতে তাই দুবার ভাবতে হয়নি নির্বাচকদের। ময়মনসিংহের এই তারকা শেষ প্রস্তুতি ম্যাচেও চল্লিশোর্ধ্ব একটি ঝোড়ে ক্যামিও খেলে আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে রেখেছিলেন।
তাতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সবুজ পিচের পরীক্ষায় নিজের সামর্থ্যটা জানান দিলেন আরেকবার। এই সাত রানের অপেক্ষা হয়তো পরের ম্যাচটিতেই কাটিয়ে নেবেন। সেটি হলে বাংলাদেশের জন্যও ভালো। গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে যে রূপকথার রচনা করেছিল টাইগাররা, তাতে দুই সেঞ্চুরি করে আলোর অনেকটাই নিজের দিকে টেনে নিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। আবারো সেই রূপটা ধারণ করতে পারলে দলের সাফল্যের হারও নিশ্চয় বেড়ে যাবে।








