সাত মাস। লম্বা সময়। এসময় আধা ডজন ওয়ানডে খেলে ফেলেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু একটি ফিফটি যেন সোনার হরিণ হয়ে গিয়েছিল। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে গত ম্যাচে বৃষ্টি বাধায় অর্ধশতক থেকে সাত রান দূরে আটকে ছিলেন। বুধবার আর অপেক্ষাটা বাড়তে দিলেন না। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলের বিপদের মুহূর্তে হাল ধরে ঝলমলে একটি ফিফটি তুলে নিয়েছেন এই অলরাউন্ডার।
সঙ্গে মুশফিক-সৌম্যর দুই ফিফটিতে ২৫৭ রানের সংগ্রহ গড়েছে বাংলাদেশ।
ডাবলিনের ক্লনটার্ফ ক্রিকেট ক্লাব গ্রাউন্ডে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ ছিল বাংলাদেশের। পরে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারালেও প্রতিরোধও গড়ে টাইগাররা। যার দুটিতে আছে মাহমুদউল্লাহর নাম। প্রথমে মুশফিকের (৫৫) সঙ্গে ৪৯ ও পরে মোসাদ্দেকের (৪১) সঙ্গে ৬১ রানের জুটি গড়েন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৬ চারে ৫৬ বলে ৫১ রানে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ। বেন্নেটের বলে রেনচের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি।
এই রান করার পথে আরেকটি মাইলফলকের দিকে অনেকটাই এগিয়ে গেলেন টাইগার অলরাউন্ডার। বাংলাদেশিদের মধ্যে ওয়ানডেতে তিন হাজারি ক্লাবে নাম লেখাতে আর মাত্র ২৮ রান দরকার মাহমুদউল্লাহর। ক্লনটার্ফে নামার আগে ৭৯ রান দূরে ছিলেন তিনি।
ত্রিদেশীয় সিরিজ ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য দেশ ছাড়ার আগে মাহমুদউল্লাহর ফর্ম নিয়ে জোরদার প্রশ্ন ছিল। শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট দল থেকে বাদও পড়েছেন। সফরের মাঝ পথে দেশে ফিরে আসা না-আসা নাটক-আলোচনা নিয়েও সরগরম ছিল ক্রিকেটাঙ্গন। দলে শক্তপোক্ত জায়গাটা যখন নড়বড়ে, তখন ঘরোয়া ক্রিকেটে রান করে স্কোয়াডে টিকে যান। প্রস্তুতি ম্যাচের পর টানা দুই ম্যাচে দলের বিপদে হাল ধরে সমালোচনার বাকি জবাবটা ব্যাটেই দিলেন গত ওয়ানডে বিশ্বকাপে টানা দুটি সেঞ্চুরি করে আলোচনায় আসা এই টাইগার।
মেলাহাইডে আইরিশদের বিপক্ষে ৪৩ রানে অপরাজিত থাকায় ৭ মাস পর একটা ওয়ানডে ফিফটির অপেক্ষাটা দীর্ঘই হয়েছিল মাহমুদউল্লাহর। এর আগে গত সাত মাসে ছয় ম্যাচ খেলে পাঁচ ইনিংসে তিনি তুলেছিলেন যথাক্রমে ৬, ০, ১, ১৩* এবং ৭ রান। তাতে দুই অংকের ঘর ছুঁয়েছেন মাত্র একবার। সাত মাস আগে সর্বশেষ ওয়ানডে অর্ধশতকটি ছিল ৭৫ রানের। গত অক্টোবরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাটিতে। পরে নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কা সফরে ছিলেন সুপারফ্লপ।
ফর্মটা ধরে রাখলে ত্রিদেশীয় সিরিজেই তিন হাজারি মাইলফলকটাও ছুঁতে কোন সমস্যা হবে না মাহমুদউল্লাহর। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২০০৭ সালে কলম্বোতে ওয়ানডে অভিষেকের পর ১৩৯টি ওয়ানডে খেলে ফেললেন। তাতে ১৭টি অর্ধশতকের সঙ্গে শতক ২টি। এখন তামিম, সাকিব, মুশফিক, আশরাফুলদের তিন হাজারি এলিট ক্লাবে নাম লেখাতে আর ২৮ রানের অপেক্ষা।
রিয়াদের আগে লাল-সবুজদের হয়ে অভিজাত ক্লাবটিতে নাম লেখানোদের মধ্যে ৫৩৩৮ রান নিয়ে সবার ওপরে উদ্বোধনী বাঁহাতি ব্যাটসম্যান তামিম ইকবাল। বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান আছেন দুইয়ে, ৪৭৯৬ রান নিয়ে। আর সাদা পোশাকের কাপ্তান মুশফিকুর রহিম ৪১৮৭ রান নিয়ে আছেন তৃতীয় স্থানে। চারে থাকা মোহাম্মদ আশরাফুলের রান ৩৪৬৮! তিনি অবশ্য ফিক্সিংয়ের দায়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত আছেন অনেকদিন।








