ছোট পর্দার জনপ্রিয় পরিচালক অমিতাভ রেজা প্রথমবারের মতো সিনেমা নির্মাণ করেছেন। প্রথম ছবি ‘আয়নাবাজি’তে অভিনয় করেছেন ‘মনপুরা’ খ্যাত চঞ্চল চৌধুরী। ছবিতে অভিষেক ঘটেছে জনপ্রিয় উপস্থাপক নাবিলার। চঞ্চল-নাবিলার ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার শুটিং’র কাজ এরইমধ্য শেষ হয়েছে। ছবিতে চঞ্চলকে প্রায় ছয় সাতটি চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
‘আয়নাবাজি’ আর নিজের বিভিন্ন অভিজ্ঞতার নিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে কথা বলছেন জনপ্রিয় অভিনেতা চঞ্চল চৌধুরী।
চ্যানেল আই অনলাইন: ‘আয়নাবাজি’ সিনেমায় অভিনয় করছেন, এখন কোন পর্যায়ে আছে ছবির কাজ?
চঞ্চল চৌধুরী: ছবিটির শুটিং শেষ করলাম কিছুদিন আগে। এখন ছবির মিউজিক, ডাবিং ও এডিটিং’র কাজ চলছে।
চ্যানেল আই অনলাইন: ছবিতে আপনার চরিত্র আর শুটিং জার্নি কেমন ছিলো?
চঞ্চল চৌধুরী: ‘আয়নাবাজি’ খুব চমৎকার গল্প। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করতে যেয়ে আমাকে অনেকগুলো চরিত্র ছুঁয়ে আসতে হয়েছে। গল্পের প্রয়োজনে সাতটি চরিত্রে অভিনয় করেছি। চরিত্রের সঙ্গে সঙ্গে অামার গেটাপ-মেকাপ সবকিছুই পরিবর্তন করতে হয়েছে। তাই ছবিটি আমার জন্য খুব চ্যালেঞ্জিং ছিলো। ছবিটির বেশিভাগ শুটিং হয়েছে পুরান ঢাকার অলি-গলিতে। কেন্দ্রীয় কারাগার ও কাশিমপুর কারাগারেও শুটিং করেছি। চরম এক অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে এ ছবিটি করতে যেয়ে।
চ্যানেল আই অনলাইন: অমিতাভ রেজার সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা কেমন ছিলো?
চঞ্চল চৌধুরী: অমিভাজ রেজার সঙ্গে এর আগে নাটকে কাজ করেছি। কিন্তু ছবিতে অভিনয় এই প্রথম। পরিচালনা জীবনে এটি তার প্রথম ছবি। আর এ ছবিতে সে আমাকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিয়েছেন। তার যে আমার কাজের প্রতি আস্থা ও তার সিরিয়াসনেস সবকিছুতে আমি নিজেকে উজার করে দেওয়ার চেষ্টা করেছি। সে একজন গুণী নির্মাতা। সে চেয়েছে ভালো একটি কাজ করবে এবং সেটি সে পেরেছে।
চ্যানেল আই অনলাইন: ছবিটি কবে প্রেক্ষাগৃহে আসবে?
চঞ্চল চৌধুরী: সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ছবিটি আগামী বছর মুক্তি পাবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: অতীতের মতো এই ছবিটি কি দর্শকদের কাছে গ্রহণ যোগ্যতা পাবে?
চঞ্চল চৌধুরী: ইন্ডাস্ট্রিতে কম বেশি সবাই ছবি বানাচ্ছে। আমি মনে করি অতীতের আমার সব ছবির মতো ‘আয়নাবাজি’ ছবিটিও দর্শকদের হলে টেনে আনবে।
চ্যানেল আই অনলাইন: নাবিলার সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
চঞ্চল চৌধুরী: আমি অনেকদিন ধরে অভিনয় করছি বলে আমার সহ-শিল্পীও যে অনেক অভিজ্ঞ হবেন, তা কিন্তু না। আসলে কাজের সমন্বয় করার জন্য পরিচালক থাকেন। আমি আমার কাজ ঠিক মতো করার চেষ্টা করেছি। পরিচালক তার (নাবিলার) কাজ ঠিক মতো নেয়ার চেষ্টা করেছেন। আর আমার বিষয়ে আমি বলতে পারি, নাটক বা সিনেমা যেটিই করি না কেনো সহ-শিল্পীর সঙ্গে কাজটি ঠিকমতো বুঝে নিতে আমার কোনো সমস্যা হয় না।
চ্যানেল আই অনলাইন: ‘রূপকথার গল্প’, ‘মনের মানুষ’, ‘মনপুরা’, ‘টেলিভিশন’ ছবিগুলো মানুষের মনের মধ্যে ঢুকে গেছে কিন্তু বর্তমানে যেসব ছবি মুক্তি পাচ্ছে দেখা যায়, একসপ্তাহের মধ্যে ছবিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে। এটা কেনো হচ্ছে?
চঞ্চল চৌধুরী: দেখুন সবচেয়ে বড় কথা হলো দর্শক কি পছন্দ করে অার কি করে না প্রথমে সেটি ভাবতে হবে। দর্শকদের বিষয়টা মাথায় রেখেই ছবি নির্মাণ করতে হবে। আমাদের দেশে ছবি নির্মাণে দেখা যাচ্ছে একদল ভারতের ছবি নকল করে বানাচ্ছে। আরেক দল যা বানাচ্ছে তা দর্শকদের চিন্তাধারার বাইরে চলে যায়। আসলে দর্শক সহজ সরল ছবি দেখতে চায়। তবে তার জন্য অবশ্যই বাংলাদেশের গল্প ছাড়া অার বিকল্প পথ নেই। অন্য দেশের গল্প নিয়ে আমাদের মাতামাতি করার কেনো দরকার নেই। দেশের গল্প নিয়ে ছবি নির্মাণ করতে হবে। কারণ আমাদের এতো গল্প রয়েছে যে বাইরের দেশের গল্প ধার নিয়ে আসার দরকার নেই। প্রয়োজনের আমাদের গল্প বাইরের দেশে আমরাই বিক্রি করতে পারবো।
চ্যানেল আই অনলাইন: তাহলে কি বলতে চান আমাদের চলচ্চিত্রে অনেক ঘাটতি রয়েছে?
চঞ্চল চৌধুরী: অবশ্যই ঘাটতি রয়েছে। প্রতিটি সিনেমা যেনো একই গল্প নিয়ে নির্মিত হচ্ছে। কোনো না কোনো জায়গায় দেখবেন ছবিগুলোর ঘাটতি রয়েছে। হয়তো গল্পটা ভালো হয়নি নয়তো অভিনয় ভালো হয়নি। ঘাটতি থাকে বলেই দর্শককের কাছে ছবিগুলো হারিয়ে যায়।
চ্যানেল আই অনলাইন: এ অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার উপায় কী?
চঞ্চল চৌধুরী: বের আসার একমাত্র উপায় হলো, দেশের ভালো গল্প বাছাই করতে হবে। ভালো একটি চিত্রনাট্য হতে হবে। ভালো অভিনেতা ও অভিনেত্রী থাকতে হবে এবং পরিশেষে যদি ভালো নির্মাণ হয় তাহলে অব্যশই দর্শকে হলে যাবে এবং ছবি দেখবে।
চ্যালেন আই অনলাইন: চঞ্চল-মিলি’র রসায়ন এখন দেখা যায় না কেনো?
চঞ্চল চৌধুরী: আসলে চঞ্চল-মিলির রসায়ন দেখতে পাওয়া নির্ভর করে পরিচালকের ওপর। তারা যদি চান অব্যশই দেখবেন। আমার কাজ অভিনয় করা, সেটি করছি। কার সাথে আমাকে ভালো লাগবে সেটি পরিচালকরা ভাববেন।
চ্যানেল আই অনলাইন: যৌথ প্রযোজনার কোনো ছবিতে কাজ করছেন কী?
চঞ্চল চৌধুরী: এর আগে গৌতম ঘোষের যৌথ প্রযোজনার ছবিতে কাজ করেছি। ভালো গল্প পেলে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে কাজ করবো। কারণ, দুই দেশের ভালো অভিনেতা অভিনেত্রীর সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়া যায় এর মাধ্যমে।
চ্যানেল আই অনলাইন: কিন্তু এখন যৌথ প্রযোজনা ছবিকে অনেকে যৌথ প্রতারণার ছবি বলছে?
চঞ্চল চৌধুরী: যৌথ প্রযোজনার ছবিতে দুই দেশের প্রযোজকদের যার যার হিসেব তাকে বুঝে নিতে হবে। দায়িত্ব নিয়ে নিজের দেশের অভিনেতা-অভিনেত্রীর অভিনয়ের সুযোগ করে দিতে হবে। আর যদি এসব বিষয়ে গাফলতি থাকে তাহলে অবশ্যই ধরতে হবে অামাদের দুর্বলতা রয়েছে।
চ্যানেল আই অনলাইন: আপনাকে আর আগের মতো হাসির নাটকে দেখা যায় না, কেনো?
চঞ্চল চৌধুরী: হাসি খুব সূক্ষ একটা জিনিস। এটি যদি গল্পে বা চরিত্রে না থাকে, তখন ইচ্ছে করে হাসলে সেটি আর হাসি থাকে না হয়ে যায় ভাড়ামি। সেই মজার গল্প পেলে অাবার করবো। তবে হাসির নাটক বেশি করলে দর্শক মনে করে এই অভিনেতার মনে এই কাজ। এটা করা যাবে না। দর্শককে হাসানোর দায়িত্ব আমার না। আমার দায়িত্ব হলো আমি যে চরিত্রটি করছি সেটি ভালোভাবে উপস্থাপন করা।
চ্যানেল আই অনলাইন: ছবি বা নাটক নির্মাণ করার ইচ্ছা আছে কিনা?
চঞ্চল চৌধুরী: ছবি বা নাটক বানানোর দায়িত্ব কখনোই নিবো না। কারণ ওটা আমাকে দিয়ে হবে না। যেটি হবে সেটি অভিনয় এই কাজটি ঠিক মতো করে যেতে চাই।
চ্যানেল আই অনলাইন: ধন্যবাদ আপনাকে?
চঞ্চল চৌধুরী: চ্যানেল অাই ও চ্যানেল আই অনলাইনকে ধন্যবাদ।






