চিত্রকলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছাপচিত্র। ২০ বছর ধরে এ বিষয়ে নিরীক্ষা করে আসছেন শিল্পী তারিক জুলফিকার। সে নিরীক্ষার মাধ্যমে সৃষ্ট ২৭ টি ছাপচিত্রের ১৩ দিনের প্রদর্শনী করছে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও আমেরিকান সেন্টারের উদ্যোগে ২০১২ সালে সৃষ্ট এডওয়ার্ড এম কেনেডি সেন্টার (ইএমকে)।
১২ মে ইএমকে সেন্টারে সন্ধ্যা ৬টায় তারিক জুলফিকার এর একক ছাপচিত্র প্রদর্শনী ‘সিমুলকারাম’ উদ্বোধন হতে যাচ্ছে। প্রদর্শনীর উদ্বোধনে উপস্থিত থাকবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা’র ছাপচিত্র বিভাগের মুক্তিযোদ্ধা চিত্রশিল্পী অধ্যাপক সৈয়দ আবুল বারাক আলভি এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে চিত্রকলা বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ড. রশিদ আমিন।

ছাপচিত্র প্রদর্শনী প্রসঙ্গে শিল্পী তারিক জুলফিকার বলেন: আমি ছাপচিত্রের বিভিন্ন মাধ্যমের মধ্য দিয়ে আমার নিজস্ব ব্যক্তিগত চিন্তা ও উপলব্ধির জগতকে সবার সামনে দৃশ্যমান করার চেষ্টা করেছি মাত্র। আমি বিশ্বাস করি অতীতের মাঝেই সব প্রশ্ন ও সমাধান লুকিয়ে আছে; যেমন আমাদের জন্মের আগের স্মৃতি জমা থাকে আমাদের ডিএনএ-তে। আবার আমরা যা কল্পনা করি তা আসলে আমাদের ফেলে আসা অতীত ছাড়া আর কিছুই না।’
তিনি আরো বলেন, আসলে আমরা শুধু বারবার কপি করছি বা হচ্ছি, কিন্তু কোন কপির সাথে কোন কপির মিল নাই। ঠিক যেন আকাশের কোটি কোটি তারা। কিংবা রবিন্দ্রনাথের লেখা কবিতা গান, যা ভিন্ন ভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন মানুষ পরছে বা গাইছে বা শুনছে নতুন বাস্তবতায় ও উপলব্ধিতে। প্রতিবারই তা ঘটে নবরূপে-নবঢঙ্গে এক স্থির সময়ে। আর তাই এই প্রদর্শনীতে আমি আমার উপলব্ধির বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে চেয়েছি।’
প্রদর্শনী প্রসঙ্গে ইএমকে পরিচালক এমকে আরিফ বলেন, আমরা না দেখা দুনিয়ার অভিজ্ঞতা চিত্রশিল্পের মাধ্যমে উপলব্ধি করতে চাই। যারা এ কাজ করেন দেশে কিংবা বাইরে তাদের তুলে ধরতে চাই। ইএমকে সেন্টার এ বিষয়ে সবসময় উৎসাহ দিয়ে আসছে। শিল্পী তার সৃষ্টিতে মানুষের অবচেতন মনের দেখা না দেখা জগত তুলে ধরতে চেয়েছেন। আমরা মনে করি এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে মানুষের ছাপচিত্র এবং বিষয়বস্তু নিয়ে আগ্রহ এবং কৌতুহল সৃষ্টি হবে।
প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ধানমন্ডি পুরাতন ২৭ নং রোড এর ৫ নং বাড়ির ১০ তলায়। ইএমকে সেন্টারে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৮:৩০ টা পর্যন্ত।






