বাংলাদেশের জার্সিতে সাকিব আল হাসানকে আর মাঠে দেখা যাবে কিনা সেটি নিয়ে জেগেছে শঙ্কা। যদিও তারকা অলরাউন্ডার খেলার মধ্যেই আছেন। কানাডার ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন। সেখানে পারফরম্যান্স ভালো হলেও দেশের পালাবদলে হয়ত স্বস্তিতে নেই তিনি।
ছাত্র আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর কোণঠাসা বেশিরভাগ সংসদ সদস্য। হচ্ছেন হামলার শিকার। সাকিবের গ্রামের বাড়ির নিকটের রাজনৈতিক কার্যালয় পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা।
ক্রিকেট আইডল মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নড়াইলের ডুপ্লেক্স বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়া হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন সাবেক অধিনায়কের অসুস্থ মা।
কানাডায় ম্যাচ খেলার পর স্টেডিয়াম ছাড়ার মুহূর্তে প্রবাসী বাংলাদেশিদের রোষানলে পড়েছিলেন সাকিব। অনেকেই তাকে গালমন্দ করেন। তাকে অপমানিত করার দৃশ্য মোবাইলে ধারণ করে ছড়িয়ে দেন নেট দুনিয়ায়। ঢাকায় সাকিবের ছবি রয়েছে এমন বিজ্ঞাপনী বিলবোর্ডগুলো ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়।
সাকিবের একমাত্র পরিচয় এখন ক্রিকেটার। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংসদ ভেঙে দেয়ায় এখন আর তিনি এমপি নন। গতবছর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে খুব বেশিদিন রাজনীতির মাঠে থাকতে পারলেন না। শঙ্কায় পড়েছে তার ক্রিকেট ক্যারিয়ারও।
ক্রিকেট মাঠের লড়াকু সৈনিক সাকিব যে সুনাম কুড়িয়েছিলেন দেড়যুগের ক্যারিয়ারে, যে অকুণ্ঠ ভালোবাসা পেয়েছিলেন ভক্তদের থেকে, সেটি অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছেন যেন ছাত্রদের কোটা আন্দোলনের পর থেকে। পুলিশের বুলেটে দেশ রক্ত-সমুদ্রে ভাসলেও নীরব থেকেছেন বিশ্বতারকা।
দেশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ আর যু্ক্তরাষ্ট্রে পরিবার নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। বাংলাদেশের চরম দুঃসময়, অনিশ্চয়তা ছুঁতে পারেনি তাকে। অন্তত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা গণমাধ্যমে আন্দোলন নিয়ে কোনো প্রকাশ মেলেনি তার দিক থেকে। আরেকটি ঘটনা সাকিবকে করেছে আরও প্রশ্নবিদ্ধ। বিব্রত হতে হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকেও (বিসিবি)।
বাংলা টাইগার্স-টরন্টো ন্যাশনালস ম্যাচ শেষে সাকিব গ্যালারিতে থাকা দর্শকদের সামনে গেলে একজন তাকে কোটা আন্দোলন নিয়ে মুখ খুলতে বলেন। জবাবে সাকিব সেই দর্শককে প্রশ্ন করেন, আপনি দেশের জন্য কী করছেন? এরপরে বেশ কয়েকবার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয় দুজনের মধ্যে। সেসময়ে একই প্রশ্ন করেছেন সাকিব। সেই কথোপকথনের ভিডিও ভাইরাল টপিকে পরিণত হয়।
মাশরাফী আন্তর্জাতিক খেলা ছাড়লেও সাকিব অবসরে যাননি। ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর ভাবনা ছিল ৩৭ বর্ষী তারকার। যে পরিস্থিতি তাতে টাইগার অলরাউন্ডারকে হয়ত নতুন করেই ভাবতে হবে।
গ্যালারি থেকে হজম করতে হতে পারে কথার তীর। নিরাপত্তা জোরদার করার প্রয়োজনও দেখা দিতে পারে। ২০২০ সালে একজনের হুমকির পর মিরপুরে গানম্যান নিয়ে অনুশীলন চালিয়ে গিয়েছিলেন সাকিব। তখন তার রাজনৈতিক পরিচয় ছিল না।
এর আগে পারফরম্যান্স খারাপ হওয়ায় দেশের মাঠেই ‘ভুয়া ভুয়া’ দুয়োধ্বনি শুনেছেন। কিন্তু এখন মাঠে সাকিবকে যা শুনতে হচ্ছে তা গণমাধ্যমে প্রকাশের অযোগ্য।
রাওয়ালপিন্ডিতে ২১ আগস্ট থেকে শুরু হতে চলা পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে খেলার কথা সাকিবের। দেশের বাঁকবদলের পর তিনি কী ভাবছেন ক্যারিয়ার নিয়ে সেটি জানা যাবে কয়েকদিনের মধ্যে। একটি সূত্রে জানা গেছে, অস্থির এ সময়ে সাকিবের দেশে প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
স্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রের বাসিন্দা হওয়ায় দেশটিতে সাকিবের যাওয়া-আসা করতে হয় নিয়মিত। খেলার বাইরে সময়ে পেলে অবকাশ কাটে মার্কিনমুলুকে। পাকিস্তান সিরিজের দলে থাকলে সাকিবের কানাডা থেকেই পাকিস্তানে গিয়ে দলের সঙ্গে যোগ দেয়ার কথা।
বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের সহকারী ম্যানেজার শাহরিয়ার নাফীস সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘সাকিব আল হাসান এখন আর সংসদ সদস্য নন। তিনি একজন ক্রিকেটারই রয়েছেন। তবে প্রত্যেক মানুষেরই নিরাপত্তার ব্যাপার আছে। ১২ আগস্ট পর্যন্ত তার এনওসি (যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় খেলার) রয়েছে। এরপর বাংলাদেশ দলে যোগ দেয়ার কথা। বিসিবির নির্বাচক কমিটি এখন পর্যন্ত দল (পাকিস্তান সফরের) ঘোষণা করেনি। দল ঘোষণার পর সে যদি দলে থাকে, তখন একরকম। আর যদি দলে না থাকে তখন তো তার এনওসির কোনো বিষয় আসছে না।’








