৬ আগস্ট ২০০৬, হারারে; আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের হয়ে অভিষেক হয় সম্ভাবনাময় এক তরুণ অলরাউন্ডারের। ৬ আগস্ট ২০১৮, লডারহিল ফ্লোরিডা; ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে সেই তরুণ এখন টাইগার দলের অধিনায়ক। মাঝে নিজেকে তুলে নিয়েছেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের কাতারে। আগস্টের এই দিনটি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিব আল হাসানের এক যুগ পূর্তির দিন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টি-টুয়েন্টি সিরিজে সেরা হয়েই দিনটি রাঙিয়েছেন সাকিব।
সাকিবের টেস্ট অভিষেক ১৯মে ২০০৭, চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে। তার এক বছর আগে ওয়ানডে অভিষেক, ৬ আগস্ট ২০০৬, হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। টি-টুয়েন্টি অভিষেকও ওই বছরেই, ২৮ নভেম্বর খুলনায় প্রতিপক্ষ ছিল জিম্বাবুয়েই।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের দিনে শুরুতে বল করার সুযোগ পান সাকিব। ১০ ওভারে ৩৯ রানে নেন এক উইকেট। চিগুম্বুরাকে ফেরান বোল্ড করে। পরে ব্যাট হাতে ২ চারে ৪৯ বলে অপরাজিত ৩০ রান করেন। বাংলাদেশ ওয়ানডেটি জেতে ৮ উইকেটে।
যুগপূর্তির দিনে শুরুতে নেমেছেন ব্যাট হাতে। ২ চারে ২২ বলে ২৪ রান করেছেন। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ৪৪ রানের জুটি গড়েছেন। পরে বল হাতে ৪ ওভারে ২২ রানে এক উইকেট। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টুয়েন্টিটি বাংলাদেশ জেতে বৃষ্টি-আইনে ১৯ রানে। সঙ্গে সিরিজ নিশ্চিত করে।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের সঙ্গে ওয়ানডে সিরিজের মতো টি-টুয়েন্টি সিরিজও ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় লাল-সবুজরা। সাকিব হয়েছেন সিরিজসেরা। তিন ম্যাচে ১০৩ রানের সঙ্গে ৩ উইকেট নিয়ে।
এক যুগের এই পথ চলায় ৫৩ টেস্ট, ১৮৮ ওয়ানডে আর ৬৯ টি-টুয়েন্টি খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাকিবের মোট ম্যাচ সংখ্যা ৩১০টি। সময়টাতে সব ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ১০,৪৯৩ রান তার। আর ভাগ করলে টেস্টে ৩৬৯২, ওয়ানডেতে ৫৪৩৩, টি-টুয়েন্টিতে ১৩৬৮ রান তার। সাদা পোশাকে ৫টি সেঞ্চুরি, সেরা ২১৭। রঙিন পোশাকের ছোট ফরম্যাটে শতক নেই, সর্বোচ্চ ৮৪। তবে ওয়ানডেতে ৭টি শতক আছে সাকিবের, সর্বোচ্চ অপরাজিত ১৩৪।
সময়টাতে সব ফরম্যাট মিলিয়ে মোট ৫১৩ উইকেট ঝুলিতে সাকিবের। টেস্টে ১৯৬, সেরা ৩৬ রানে ৭ উইকেট। ইনিংসে ১৮বার পাঁচ উইকেট, আর দুবার দুই ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিয়েছেন। সেখানে ওয়ানডেতে ২৩৭ উইকেট দখলে, সেরা ৪৭ রানে ৫টি। আর টি-টুয়েন্টিতে ৮০ উইকেট, সেরা ১৫ রানে ৪টি।
সাকিবের বয়স চলছে ৩১! বাংলাদেশের হয়ে তিন ফরম্যাটেই এখনও অটোমেটিক চয়েস তিনি। ব্যাটে-বলে দলে দুজনের ভূমিকা পালন করে চলেন একাই! এখন তো টেস্ট আর টি-টুয়েন্টি অধিনায়কও। দাপিয়ে খেলে বেড়ান বিভিন্ন দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোতেও। যুগের পথ চলায় অসংখ্য রেকর্ড বয়ে এনেছেন নামের পাশে, দেশের খাতায়। সেই পথচলা আরও অনেক বছর দীর্ঘ হবে বলেই টাইগারপ্রেমীদের প্রত্যাশা।








