দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়া শেষে সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধরীর ফাঁসির রায় কার্যকর করা হলো শনিবার দিবাগত রাতে। তাকে আটক থেকে শুরু করে ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার মধ্যে ঘটনা প্রবাহ দীর্ঘ প্রায় ৫ বছর ধরে চলমান। ২০১০ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বিস্তৃত ছিলো এ প্রক্রিয়া।
একটি গাড়ি পোড়ানো মামলায় ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর গ্রেফতার করা হয় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে। এরপর ১৯ ডিসেম্বর একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয় তাকে।
৩০ ডিসেম্বর আদালতের নির্দেশে প্রথমবারের মতো তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। ২০১১ সালের ৩ অক্টোবর সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে অগ্রগতি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত দল। একই বছরের ১৪ নভেম্বর তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) জমা দেওয়া হয়।
সাকার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ ১৮ নভেম্বর আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই সময় প্রসিকিউশন তার বিরুদ্ধে ৫৫ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগের সঙ্গে এক হাজার ২৭৫ পৃষ্ঠার আনুষঙ্গিক নথিপত্র এবং ১৮টি সিডি ট্রাইব্যুনালে জমা দেন। ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করেন ২০১২ সালের ৪ এপ্রিল। তার বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২৩টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আইন’১৯৭৩ এর ৩(২)(এ)(সি)(১)(জি)(এইচ) ধারা অনুযায়ী গঠন করা এসব অভিযোগের মধ্যে ছিল গণহত্যা, হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ করে ‘গুডস হিলে’ নির্যাতন, দেশান্তরে বাধ্য করা, ধর্মান্তর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধ।
২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। সে সময় সাকা চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনা ২৩ টি অভিযোগের মধ্যে ট্রাইব্যুনাল ৯ টি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছিলেন। পরে আপিল বিভাগ শুধুমাত্র একটি অভিযোগ থেকে খালাস দিয়ে বাকি ৮ টি অভিযোগে তার দণ্ড বহাল রেখেছিলেন।
এরপর সাকা চৌধুরী মৃত্যুদণ্ডাদেশে রিভিও চেয়ে আবেদন করে। ১৮ নভেম্বর রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন খারিজ করে দেন আপিল বেঞ্চ। সেই সঙ্গে তাদের ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছেন।
২১ নভেম্বর রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন নাকচ হওয়ার পর শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার পর তাকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।






