ফতুল্লা থেকে: ইর্মাজিং এশিয়া কাপের প্রস্তুতি ম্যাচে সাইফ হাসান ও নাসির হোসেনের হাফ সেঞ্চুরিতে মাশরাফি বিন মর্তুজার সবুজ দলকে হারিয়েছে লাল দল। ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে সবুজদের নির্বিষ বোলিংয়ের সামনে ৪ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয় লালরা। ২১২ রানের লক্ষ্য ৩৭.১ ওভারে অতিক্রম করে তারা। ৬২ রান করেন ওপেনার সাইফ। নাসির ৫২ রানে অপরাজিত থাকেন।
সবুজ ঘাসের উইকেট। পেসারদের জন্য স্বর্গরাজ্য। বাউন্স মিলেছে সহসাই। সুযোগটা সেভাবে নিতে পারেনি সবুজ দলের পেসাররা। প্রথম উইকেট জুটিতে সাইফ ও আফিফ ১১ ওভারে ৭০ রান যোগ করে ম্যাচ নিজেদের দিকে নিয়ে যায়। পরে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও ঢাল হয়ে ওঠেন নাসির। দায়িত্ব নিয়ে খেলে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন দলের অধিনায়ক।
খালেদ হাসান ও ইবাদত হোসেন নেন দুটি করে উইকেট। একটি করে উইকেট কাজী অনিক ও মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের। ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা মাশরাফি ৮ ওভারে ৪৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য।
নতুন বলে আক্রমণের সূচনা করেন ইবাদত। প্রেসবক্স প্রান্ত থেকে দ্বিতীয় ওভারেই আসেন মাশরাফি। প্রথম বলটি করেন লেগ স্টাম্পের বাইরে। ওয়াইড হওয়া বলটি উইকেটরক্ষক এনামুলের গ্লাভস ঘেঁষে চলে যায় সীমানার বাইরে। পরের বল ওভারস্টেপিংয়ের কারণে নো-ডাকেন আম্পায়ার। প্রথম ওভারে ১১ রান দেয়া মাশরাফি ওই স্পেলে ৪ ওভার বোলিং করে দেন ৩০ রান।
দ্বিতীয় স্পেলে ২ ওভারে ১১, শেষ দিকে তৃতীয় স্পেলে এসে ২ ওভারে দেন ৪ রান। স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষে বোলিং নিয়ে সন্তুষ্টি ঝড়েনি মাশরাফির কণ্ঠে, ‘প্রায় তিন মাস পর ম্যাচ খেলতে নেমেছি। জানতাম কঠিন হবে। প্রথম দিকে নো বল হচ্ছিলো। এগুলো কাভার করা গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীলঙ্কায় একটা প্রস্তুতি ম্যাচ আছে। আশা করি এর মধ্যে ঠিক হয়ে যাবে।’
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে জাকির হাসানের হাফ সেঞ্চুরিতে (৫৭) মাশরাফি বিন মর্তুজার সবুজ দল ২১১ রানের সংগ্রহ গড়ে। ৪৭.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারায় তারা। নাঈম ইসলাম জুনিয়র ৩৩, আজমীর আহমেদ ২৯, সালমান হোসেন ২৫, মাশরাফি বিন মর্তুজা ১৯ ও রাহাতুল ফেরদৌস ১৯ করেন।
ব্যর্থ হয়েছেন টপঅর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান মেহেদি মারুফ ১, এনামুল হক বিজয় ১ ও তুষার ইমরান শূন্য রানে ফিরে। ঘাসের উইকেটে ব্যাটিংয়ে নেমে ১১ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে বসে সবুজ দল। টেল এন্ডারদের প্রচেষ্টায় শেষ পর্যন্ত দু’শ পেরোয় তারা।
৮৪ রানে ৬ উইকেট পড়ে গেলে ব্যাটিংয়ে আসেন মাশরাফি। জাকিরের সঙ্গে জুটি বেধে দলীয় রান একশ পার করেন। দেখেশুনে খেলতে থাকা জুটিটি যখন বড় হওয়ার পথে নাসিরের দারুণ এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে যান ম্যাশ। ব্যাটিং নিয়ে মাশরাফি বললেন, ‘২০-২২ ওভারের মধ্যে ৬ উইকেট পড়ে যায়। চেষ্টা করছিলাম যতক্ষণ মাঠে থাকা যায়। অনেকদিন পর মাঠে নেমেছি, যতক্ষণ মাঠে থাকবো ততই ভালো। ওটাই চেষ্টা করছিলাম।’
মাশরাফির বিদায়ের পর টেল এন্ডারদের ব্যাটিংয়ে দু’শ পেরোয় সবুজ দল। লাল দলের আবু হায়দার রনি, আবুল হাসান রাজু ও মেহেদি হাসান নিয়েছেন দুটি করে উইকেট নেন। নাসির হোসেন, সানজামুল ইসলাম, শফিউল ইসলাম ও নাসুম আহমেদ নেন একটি করে উইকেট।
ইমার্জিং কাপের প্রস্তুতি ম্যাচ হলেও শ্রীলঙ্কায় ওয়ানডে সিরিজ খেলতে যাওয়ার আগে ম্যাচ প্রস্তুতি সারতেই খেলছেন জাতীয় দলের তিন ক্রিকেটার মাশরাফি, সানজামুল ও নুরুল হাসান সোহান। এই তিন ক্রিকেটার শনিবার শ্রীলঙ্কায় যাবেন। ইমার্জিং কাপের দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচ শনিবার একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে।








