আত্মসমর্পনের একদিন পর টাঙ্গাইল-৩ ঘাটাইল আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানাকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগার থেকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ স্থানান্তর করা হয়েছে। সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
টাঙ্গাইল জেলা কারাগারের জেলার রিতেশ চাকমা জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিদের্শে টাঙ্গাইল জেলা কারাগের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে এমপি রানাকে আজ বিকেল সাড়ে ৩টায় কাশিমপুর কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। আমানুরকে স্থানান্তরের এই প্রক্রিয়ায় কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এর আগে রোবার সকালে মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগ নেতা ফারুক হত্যা মামলার পলাতক আসামী সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা টাঙ্গাইল অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমপর্ন করেন। পরে আদালতের বিচারক আবুল মনসুর মিয়া তার জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের আদেশ দেন।
২০১৩ সালের ১৮ জানুয়ারী রাতে শহরের কলেজ পাড়ায় নিজ বাস ভবনের সামনে থেকে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা ফারুক আহম্মেদ গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার পর নিহত ফারুর আহম্মদের স্ত্রী নাহার আহম্মেদ বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার অনুসন্ধানে টাঙ্গাইলের-৩ (ঘাটাইল) আসনের সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানা ও তার তিনভাই টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক মেয়র শহিদুর রহমান খান মুক্তি, কেন্দ্রিয় ছাত্র লীগের সাবেক সহসভাপতি সানিয়াত খান বাপ্পা ও পরিবহন ব্যবসায়ী নেতা জাহিদুর রহমান খান কাকনের নাম উঠে আসে।
এরপরই টাঙ্গাইল ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায় সাংসদ আমানুর। পরে এ বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি সাংসদ আমানুর ও তাঁর তিন ভাইসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল আদালত মামলার অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক আমানুরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ১৭ মে এই ১০ জনের বিরুদ্ধে হুলিয়া ও মালামাল জব্দ করার নির্দেশ দেন আদালত।
২০ মে পুলিশ সাংসদ ও তাঁর তিন ভাইয়ের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মালামাল জব্দ করে, তবে সেখানে উল্লেখযোগ্য কিছু ছিল না। সর্বশেষ ১৬ জুন আদালত আসামিদের হাজির হওয়ার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন। সাংসদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির বিষয়টি চিঠি দিয়ে জাতীয় সংসদের স্পিকারকে জানানো হয়।








