প্রতি সাড়ে ৪ দিনে সারাবিশ্বের কোথাও না কোথাও একজন করে সাংবাদিক নিহত হচ্ছেন। গত ১০ বছরে নিহত হয়েছেন ৮২৭ জন সাংবাদিক। জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থার (ইউনেস্কো) প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য সেফটি অব জার্নালিস্টস অ্যান্ড দ্য ডেঞ্জার অব ইম্পিউনিটি’ শীর্ষক প্রতিবেদনে সিরিয়া, ইরাক, ইয়েমেন ও লিবিয়ার মতো আরব রাষ্ট্র এবং দক্ষিণ আমেরিকার দেশগুলোকে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করা হয়েছে। ওইসব দেশে বিদেশী সাংবাদিকদের চেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রাণনাশের ঝুঁকি বেশি। এ পর্যন্ত নিহত হওয়া সাংবাদিকদের ৯০ শতাংশই স্থানীয়। প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি হতাহতের তালিকায় যোগ হচ্ছে অনলাইন সাংবাদিকদের নাম। ২০১৪ সালে যেখানে মাত্র দুজন অনলাইন সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছিলেন, সেখানে গত বছর মারা গেছেন ২১ জন। সেসঙ্গে নারী সাংবাদিকদের ওপরে হামলার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। বাংলাদেশের সাংবাদিকরাও রয়েছেন নানাবিধ প্রতিকূলতার মুখে, ১৯৯২ থেকে দেশে ২০ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। নিহত সাংবাদিকদের পরিবারগুলো অর্থনৈতিক সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যা আর নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সাংবাদিকদের পাশাপাশি প্রকাশক ও মুক্তমনা-ব্লগাররাও যুক্ত হয়েছেন হতাহতের তালিকায়। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন সাংবাদিকরা, কখনও কখনও তাদের প্রাণ দিতে হচ্ছে। সাংবাদিক নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিচারিক তদন্তে দীর্ঘসূত্রতা, বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে এসব ঘটনা বেড়েই চলেছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। মুক্ত গণমাধ্যমের বিকাশে সরকার সচেতন বলে দাবি করলেও সাংবাদিক নির্যাতন-হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সাংবাদিকদের অসহায়ত্ব বাড়িয়ে চলেছে। তবে, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারহীনতা বন্ধে ইউনেস্কো ঘোষিত আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে ঢাকায় এক আলোচনায় সাংবাদিক নেতারা এও বলেছেন, সাংবাদিকদের মধ্যে বিভক্তির কারণেও সাংবাদিক হত্যা এবং নির্যাতনের ঘটনাগুলোতেউপযুক্ত বিচার পাওয়া যাচ্ছে না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সকল প্রকার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ হস্তক্ষেপ ও সংবাদকর্মীদের হয়রানি বন্ধসহ দায়িত্ব পালনে প্রতিবন্ধকতা প্রতিহত করা সরকারের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। সাংবাদিক নির্যাতন, হত্যার দ্রুত সুষ্ঠু বিচার হওয়াও জরুরি। উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আর সরকারের মধ্যে আয়নার মতো কাজ করা সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতনের প্রবণতা বন্ধ না হলে গণতন্ত্রের বিকাশ ও জনগণের প্রকৃত উন্নয়ন কখনই সম্ভব হবে না।









