উন্নয়ন সাংবাদিক, কৃষি ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ। তার পরিকল্পনা, পরিচালনা ও উপস্থাপনায় টেলিভিশনের অন্যতম জনপ্রিয় ঈদ অনুষ্ঠান ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ প্রতি বছর ঈদ আনন্দে বাড়তি মাত্রা যোগ করে। অনুষ্ঠানটি ধারণের জন্য শাইখ সিরাজ দলবল নিয়ে ছুটে বেড়ান গ্রামবাংলার প্রত্যন্ত সব অঞ্চলে। পদ্মা, যমুনার চর তো বটেই, কৃষকের ঈদ আনন্দ ধারণের জন্য তিনি ছুটে গেছেন হাজারো মাইল দূরের দেশ উগান্ডায়।
আগামী ঈদুল আজহার জন্য ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ অনুষ্ঠানের শুটিং উপলক্ষে ঈদের আগেই ঈদ নেমেছিল কংশ নদীর পাড়ে। অনুষ্ঠানের শুটিং ঘিরে ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাটের ঔটি গ্রামে কংশ নদীর পাড়ে বিস্তীর্ণ মাঠে জমজমাট আনন্দ মেলা বসেছিল গত ১৮ জুলাই মঙ্গলবার।
এবার আয়োজনের জন্য ময়মনসিংহ বেছে নেওয়ার কারণ হিসেবে শাইখ সিরাজ বলেন, ‘পুরাতন ব্রক্ষ্মপুত্রের তীরবর্তী ময়মনসিংহের মানুষের অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষি। প্রাচীনকাল থেকেই খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এই অঞ্চল। ধান, পাট, সরিষা, বেগুনের পাশাপাশি মাছ চাষেও বিপ্লব এনেছে এখানকার কৃষক। এই জেলার কলসিন্দুরের মেয়েরা সাহস আর দৃঢ় মনোবল দিয়ে বাংলাদেশকে নিয়ে গেছে বিশ্ব প্রাঙ্গণে। এছাড়া এই ময়মনসিংহেই রয়েছে ময়মনসিংহ গীতিকার অমর কীর্তি। কবি চন্দ্রাবতীর জন্মস্থানও এখানে। প্রতি বছর কৃষকের ঈদ আনন্দের একটি নির্দিষ্ট থিম থাকে। এবার কৃষি ঐতিহ্যের আরেক কীর্তিময়ী নারী জ্যোতিষী খনাকে থিম করা হয়েছে। সব দিক থেকে ময়মনসিংহকেই এবার আয়োজনের উপযোগী মনে হয়েছে।’
শাকুয়াই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নাজিমুদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের অনেক প্রিয় একটি অনুষ্ঠান কৃষকের ঈদ আনন্দ। প্রতি ঈদে পরিবারের সাথে অনুষ্ঠানটা টিভিতে দেখি। শাইখ সিরাজের কৃষকদের সঙ্গে মিশে যাওয়া দেখি আর ভাবি এই মানুষটা কত ভালো কাজ করছেন। এবার তিনি আমাদের এলাকায় এসেছেন। এই আনন্দ বলে বোঝানোর মতো না। শাইখ সিরাজ এই এলাকার মানুষের কাছে কতটা জনপ্রিয়, তার প্রমাণ তীব্র রোদ ও গরম উপেক্ষা করে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছেন। আজ আমাদের হালুয়াঘাট ধন্য। এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে শাইখ সিরাজ সাহেবকে অসংখ্য ধন্যবাদ।’

শুটিং দেখতে আসা ঔটি গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, ‘আমাদের বাড়ি কংশ নদীর দক্ষিণ পাড়ে। শুটিং হচ্ছে উত্তর পাড়ে। নদী পারাপারের জন্য নৌকা নেই। তাই আমরা গামছা দিয়ে মোবাইল ফোন মাথায় বেঁধে সাঁতরে নদী পাড় হয়েছি। এত কাছে আমাদের প্রিয় অনুষ্ঠান কৃষকের ঈদ আনন্দের শুটিং হচ্ছে আর আমরা তা দেখব না, তা কি হয়? শাইখ সিরাজ স্যারকে দেখে খুবই ভাল লাগছে।’
‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ অনুষ্ঠানটি ঈদুল আজহার পরদিন বিকেল সাড়ে চারটায় চ্যানেল আইতে প্রচারিত হবে।
ছবি: তানভীর আশিক







