অভিবাসী সমস্যা সমাধানে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি সহযোগিতা মূলক সমাধানে পৌছানোর আশা ম্রিয়মান হয়ে গেছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ড ভেসে আসা নৌকাগুলোকে বাধা দেয়ার ব্যপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এই বিষয়ে পরিকল্পিত কোন আঞ্চলিক চুক্তিকে প্রত্যাখানের হুমকিও দিয়েছে মিয়ানমার।
বৃহস্পতিবার দক্ষিণ এশিয়ার সরকারগুলোর বিরুদ্ধে অভিবাসীদের বহনকারি জাহাজ ও নৌকাগুলো ফিরিয়ে দেয়ার ঘটনায় তাদেরকে নিয়ে “মানব পিং পং” খেলার অভিযোগ করেছে সমালোচকরা।
মিয়ানমার এবং বাংলাদেশী অভিবাসীদের বহন করা জাহাজ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রবেশে বাধা দেয়ার ব্যপারে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং থাইল্যান্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এবং অধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো আরো জোরালো সতর্ক বাণী উচ্চারণ করেছে। সাগরে ভাসা হাজারো মানুষের প্রতি এই কঠোর পদক্ষেপ তাদের আরো বিপদাপন্ন করবে এবং এ উদ্যোগকে দেশগুলোর আন্তর্জাতিক দায়িত্বের প্রতি অবহেলাও বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য ইন্দোনেশিয়ান প্রশাসনের জাহাজ ফিরিয়ে দেয়ার প্রতিজ্ঞা সত্ত্বেও স্থানীয় জেলেরা দূর্ভাগা অধিবাসীদের বহন করা একটি নৌকা উদ্ধার করেছে, যেখানে ৬১ জন শিশু রয়েছে।
বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে অবাঞ্চিত মুসলিম সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শত শত মানুষে পূর্ণ একটি নৌকা থাই সাগরে ভাসতে থাকা অবস্থায় খুজে পাওয়া যায়। সেদিন সন্ধ্যার পরে হেলিকপ্টার থেকে থাই নেভির ছুড়ে ফেলা খাদ্যের প্যাকেট সংগ্রহের জন্য কিছু ক্ষিণকায় দূর্বল মানুষ সাগরে ঝাপিয়ে পরতে দেখা যায়।
এএফপির একজন প্রতিবেদক জানান, তিনি একজন মানুষকে দেখেছেন, যে সাগর থেকে নুডলস সংগ্রহ করেই সাগরের পানিতেই তা খাচ্ছেন, নৌকায় ফিরে যা্ওয়ার আগেই।
সাংবাদিকদের একটি নৌকাকে উদ্দেশ্য করে একজন অধিবাসী চিৎকার করে জানান, যাত্রাপথে আমাদের ১০ জন মারা গেছেন। আমরা তাদের দেহগুলো সাগরে ফেলে দিয়েছি। আমরা দুইমাস যাবত সাগরে ভাসছি। আমরা মালয়েশিয়া যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলেও এখনো সাগরেই রয়েছি।
আজ শুক্রবার ইন্দোনেশিয়ার আচেহ উপকূলে ৭০০ বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা অভিবাসী নিয়ে ডুবতে বসা একটি নৌকা উদ্ধার করেছে স্থানীয় জেলেরা। এদের মধ্যে ৩৯৫ জনই বাংলাদেশী। এর আগে গত বুধবার মালোয়েশিয়ার নৌবাহিনীর একটি টহল যান পেনাং ও লাংকাওয়ি উপকূল থেকে দুইটি নৌকাকে গভীর সাগরে ঠেলে দেয়।
দ্বিতীয় নৌকাটির কোন খোঁজ পাওয়া না গেলেও ইন্দোনেশিয়া উপকূলের কাছাকাছি কোথাও আছে বলে ধারণা করছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা। তাদের উদ্ধারের পর সমুদ্র তীরবর্তী ওয়্যারহাউজে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আচেহ প্রদেশের লাংসা শহরের ত্রাণ ও উদ্ধার বিভাগের এক কর্মকর্তা।







