বাংলাদেশ

সরকার এ হামলার দায় এড়াতে পারে না: ইমরান

রোববার বিকেল ৪টায় শাহবাগে বিক্ষোভ সমাবেশ

সরকার এ হামলার দায় এড়াতে পারে না: ইমরান

বারবার প্রাণনাশের হুমকি পাওয়া শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রখ্যাত লেখক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেছেন, সরকার এই হামলার দায় এড়াতে পারে না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, পুলিশের নিরাপত্তা দেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেও মঞ্চে ওঠার সময় তার উপর হামলা কিভাবে হয়?

হামলার প্রতিবাদে এবং ঘটনার পেছনে দায়ীদের অবিলম্বে খুঁজে করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবিতে রোববার বিকেল ৪টায় বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেন ইমরান এইচ সরকার।

অনেকদিন পর শাহবাগে কোনো কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি বলেন: কখনো কল্পনাও করিনি ড. জাফর ইকবালের মতো একজন শিক্ষাবিদের ওপর এমন ন্যাক্কারজনক হামলা এবং হামলার প্রতিবাদে আমাদের শাহবাগে দাঁড়াতে হবে।

‘তাকে আগে থেকে হুমকি দিয়ে আসা হচ্ছিলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বিভিন্ন সভা-সেমিনারে বলেছেন তার নিরাপত্তায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যদি সত্যি তাই হয় তাহলে তাদের নিরাপত্তা বেষ্টনি ভেদ করে আজ কিভাবে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলা হলো?’

দেশে কেউ নিরাপদ নয় মন্তব্য করে ইমরান বলেন: আজকের এই হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখবার সুযোগ নেই। ২০১৫ সালে অভিজিৎ রায়কে হত্যার পর যে ধারাবাহিক হামলা চলছিলো। অথচ ঘোষণা দিয়ে হামলা করাদের বিচার হয়নি, ধামাচাপা দেয়া হয়েছে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়েছে। অভিজিৎ রায়ের চার্জশিট দিতে ৩২ বার সময়ক্ষেপণ করা হয়েছে।

‘এমনকি উল্টো উগ্রবাদীদের দাবি-দাওয়া মেনে নিয়ে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করা হয়েছে। এসবের পরিণতি হিসেবে হলি আর্টিজানে হামলা হয়েছে, আজ ড. জাফর ইকবালের মতো মানুষের উপর হামলা হয়েছে।’

হামলার প্রতিবাদে মশাল মিছিল নিয়ে শাহবাগ এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রতিবাদকারীরা।

মৌলবাদীদের ধারাবাহিক হুমকির মধ্যে থাকা ড. মুহম্মদ জাফর ইকবালকে আজ ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে এক তরুণকে আটক করা হয়। এখনও তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

শনিবার বিকালে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই হামলার শিকার হন দেহরক্ষী বেষ্টিত কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এ অধ্যাপক। তার মাথায় আঘাত করা হয়েছে।

জানা গেছে, শাবিপ্রবিতে একটি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান চলাকালে ড. জাফর ইকবালের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পেছন থেকে তার ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা করে এক ব্যক্তি।

দীর্ঘদিন ধরেই ড. জাফর ইকবাল এবং তার স্ত্রী প্রফেসর ড. ইয়াসমিন হককে একাধিকবার হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

২০১৬ সালের অক্টোবরে জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের পরিচয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে হত্যার হুমকির পর জালালাবাদ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এই দম্পতি।

আগের বছর ২০১৫ সালে শাবিপ্রবিতে উপাচার্য বিরোধী আন্দোলনে সস্ত্রীক সক্রিয় ছিলেন তিনি। সেসময় তার স্ত্রীসহ অন্য শিক্ষকরা ছাত্রলীগের হামলার শিকার হন।

বিষয়:ড.জাফর ইকবাল

আরও পড়ুন

পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…