জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচিত সদস্যদের সংসদে যোগ দেওয়া না দেওয়ার বিতর্কের মধ্যেই গণফোরাম থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নিয়ে বিজয়ী সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেছেন, ‘সময় হলে সংসদে দেখতে পাবেন’।
মঙ্গলবার দুপুরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে চ্যানেল আই অনলাইনকে সুলতান মনসুর বলেন, ‘‘শপথের ব্যাপারে গণফোরাম বা কোনো পক্ষ থেকে কোনো বাধা নেই। যখন সময় হবে অবশ্যই সংসদে দেখতে পাবেন।’’
তিনি বলেন, ‘প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও পাস করে বেরিয়ে এসেছি আমি। আমার এলাকার যারা আমাকে নির্বাচিত করেছে, প্রথম কথা তাদের প্রতি আমার দায়িত্ব আছে। যে কারণে তারা আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছে।’
‘‘শত প্রতিকূলতার মধ্যেও সেখানে তাদের চাহিদা, আকাঙ্ক্ষা, তাদের দাবি দাওয়া এবং তাদের ভোটাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়াটাই হলো আমার প্রথম এবং মৌলিক কাজ। আমার সংসদীয় এলাকার লোকজনের যে চাহিদা বা আকাঙ্ক্ষা এভাবেই আমার তাদের পক্ষে আমার ভূমিকা পালন করতে হবে।’’
আপনি শেষ পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছেন তাহলে? এমন প্রশ্নে ডাকসুর সাবেক এ ভিপি বলেন, ‘আমি যাবো না, কোনোদিন তো বলিনি। জনগণ যেহেতু আমাকে ভোট দিয়ে পাঠিয়েছে, আমার প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে আমার সংসদীয় এলাকার মানুষজন কি চায় তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া। তারা একশত ভাগই চায় যাতে আমি তাদের দাবি দাওয়া এবং তাদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি। এটা হলো প্রাথমিকভাবে আমার সংসদীয় এলাকার মানুষজনের আকাঙ্ক্ষা।’
‘‘পরবর্তী পর্যায় হলো রাজনীতিক কমিটমেন্ট। সেটা হলো বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বহুদলীয় রাজনীতি ও বহুদলীয় সংসদীয় পদ্ধতিতে বিশ্বাস করতেন। সেক্ষেত্রে আমি মনে করি বহুদলীয় সংসদ তখনই হবে যখন সংসদে সকল দলের প্রতিনিধিত্ব থাকবে। এটি আমার রাজনীতিক বিশ্বাসের দ্বিতীয় ধাপ। তৃতীয় হলো আমি এই দেশের মানুষের চাহিদা ও আকাঙ্ক্ষার পক্ষে কথা বলতে চাই। কথা বলতে হলে যেখান থেকে কথা বললে মানুষের কাজ হবে বা মানুষ সচেতন হবে সে জায়গাটি হলো জাতীয় সংসদ।’’
জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া ও গণফোরামের পক্ষ হয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনের ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমি জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছিলাম। আমি ঐক্যপ্রক্রিয়ার পক্ষ হয়ে কথা বলেছি। ঐক্যপ্রক্রিয়ার প্রতিনিধি হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য আমি। কাজেই আমাকে বাদ দিয়ে তো জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত হতে পারে না।’
‘‘গণফোরামের সঙ্গে যে বিষয়টি আমাকে স্বীকার করতে হবে, জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া তো নিবন্ধিত দল না। এটি একটি প্লাটফর্ম। আমার নির্বাচন করতে হলে তো একটি নিবন্ধনকৃত দল লাগবে। কাজেই একজন বঙ্গবন্ধু অনুসারী হিসেবে আমার চিন্তার কাছাকাছি দল হচ্ছে গণফোরাম। সে কারণে গণফোরামের প্রার্থী হতে হয়েছে। এখন কোনো জায়গা থেকে শপথের ব্যাপারে বাধা নেই।’’
ঐক্যফ্রন্ট ও বিএনপি থেকে নির্বাচিত অন্য সংসদ সদস্যদের শপথের ব্যাপারে জানতে চাইলে সুলতান মনসুর বলেন, ‘‘তারা সংসদে যাবে কি যাবে না তাদের ব্যাপার। আমি তো আর বিএনপি করি না।’’
আপনি কি আওয়ামী লীগে ফিরছেন এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি তো কোনো দলে যোগদান করিনি। আওয়ামী লীগ তো আমাকে বহিস্কারও করেনি। আওয়ামী লীগ ছাড়া তো আমি অন্য দল করিনি কখনো। কাজেই দলে যোগদানেরও প্রশ্ন আসে না। আমি যে দল করতাম সে দল তো আমাকে বহিস্কার করেনি। আমিও অন্য দলে যোগদান করি নাই। আমি কি কথা বুঝাতে পেরেছি?
শোনা যচ্ছে ডাকসু নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আপনাকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে এমন প্রশ্নে সুলতান মনসুর বলেন, এখনো কিছু বলা হয়নি তেমন। বলা হলে আমি দেখবো অবশ্যই। আমি তো আছিই। রাজনীতির মাঠেই আছি। আমি রাজনীতি ছাড়িনি বলেই ১২ বছর পরে হলেও নির্বাচন করেছি, তাই না? যদি কেউ মনে করে আমাকে দিয়ে কোনো কাজ হবে। সেটা যখন আমি জানবো এবং যখন আমাকে অবগত করা হবে তখন আমি বিবেচনা করবো। চিন্তা করবো।








