প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কয়েকটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বৃদ্ধির ঘোষণায় ঘুরে দাঁড়িয়েছে দেশের পুঁজিবাজার। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স একদিনেই বেড়েছে ২৩২ পয়েন্ট বা ৫ শতাংশ। যা সূচকটি চালু হওয়ার ৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সাথে লেনদেনও বেড়েছে বড় ব্যবধানে।
২০১৫ সালের ১০ মে সূচক ১৫৫ পয়েন্ট বেড়েছিল, এরপর থেকে ক্রমাগত নীচে নামতে শুরু করেছিল দেশের পুঁজিবাজার। দফায় দফায় সূচকের পতনে গত বছরজুড়ে পুঁজিবাজারে ছিল ব্যাপক অস্থিরতা। এই পরিস্থিতিতে হঠাৎ এই ঘুরে দাঁড়ানোতে আশাবাদী হতে শুরু করেছেন দেশের বিনিয়োগকারীরা।
গত সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস (বৃহস্পতিবার) লেনদেন শেষে ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ১৯ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, যা রোববারের লেনদেন শেষে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫৫৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ একদিনেই ডিএসই’র বাজার মূলধন বেড়েছে ১৫ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। মূলধন বাড়ার অর্থ হলো তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম সম্মিলিতভাবে ওই পরিমাণ বেড়েছে।
আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬৭৭ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ১৩ হাজার ২৭৭ পয়েন্টে। সিএসইতে টাকার অংকে ৪৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।
এরআগে বাজারে বড় ধস ঠেকানোর জন্য নীতি-নির্ধারক মহল, অর্থমন্ত্রণালয় থেকে নানা পদক্ষেপ নিলেও বাজার চাঙ্গা হয়নি। তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ছিল চরম হতাশা, আজকের এই হঠাৎ উত্থানে বিনিয়োগকারীরা হয়তো নড়েচড়ে বসেছেন। দীর্ঘদিন চোখের সামনে পুঁজিবাজারের নেমে যাওয়া তাদের আত্মবিশ্বাসে যে ফাটল ধরিয়েছে, এই উত্থান সেখানে কতোটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলে তা বুঝতে হলে কিছুটা অপেক্ষা করতে হবে বলে আমাদের ধারণা। সেইসঙ্গে পুঁজিবাজারের অসাধু চক্র যেনো সক্রিয় হতে না পারে, সেবিষয়ে সরকারের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করাও জরুরি।
বিশ্ব অর্থনীতিতে কোনো একটি দেশের সক্ষমতা বিচারে পুঁজিবাজার একটি অন্যতম ক্ষেত্র। গত একদশকে বিভিন্ন সূচক-পরিসংখ্যানে বাংলাদেশ এগিয়েছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে এর পাশাপাশি যেসব নেতিবাচক সূচক আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে তার মধ্যে পুঁজিবার অন্যতম। আমাদের আশাবাদ, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা আর ইতিবাচক পদক্ষেপে এইধারা থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে দেশের পুঁজিবাজার।








