অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে ‘টিম টাইগার্সের’ দৃষ্টিনন্দন পারফরম্যান্স সমীহ আদায় করে নিয়েছে ক্রিকেট বিশ্বের। এরপর দেশের মাটিতে পাকিস্তানকে ‘হোয়াইটওয়াশ’ টাইগার ভক্তদের প্রত্যাশার পারদ বাড়িয়েছে বহুগুণ। তবে ভারতের বিপক্ষে ফতুল্লায় বৃষ্টিবিঘ্নিত টেস্টে ফলোঅনে পড়া মুশফিক-সাকিবদের সমালোচনা শুনতে হয় ঢের।
‘জিতলে বাহবা আর খারাপ করলে সমালোচনা’র সংকৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে বলে মনে করছেন ২০০১ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত বাংলাদেশ দলের কাণ্ডারি খালেদ মাসুদ পাইলট।
চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাতকারে তিনি বলেন, আমরা এখন আগের জায়গা থেকে উন্নতি করছি। আমাদের ক্রিকেটের পরিবর্তনের সাথে সাথে সমর্থকদের মানসিকতায়ও পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে ক্রিকেটাররা ভালো ক্রিকেটা উপহার দিতে পারবে না।
তবে তিনি নিজেও টিম ম্যানেজমেন্ট নিয়ে কিছুটা সমালােচনামুখর।
ফতুল্লা টেস্ট শুরু আগে পিচ নিয়ে কোচের মন্তব্যে হতাশা প্রকাশ করে জাতীয় দলের সাবেক এ অধিনায়ক বলেন, আমরা প্রথম থেকেই দেখে আসছি ফতুল্লার উইকেটে ব্যাটসম্যানরা কিছুটা সুবিধা পেয়ে থাকে। তাই পিচ দেখার পর কোচের ‘এমন পিচ জীবনেও দেখিনি’ মন্তব্য অত্যন্ত হতাশার।
জাতীয় দলসহ কোচিং ক্যারিয়ারে দীর্ঘ সময় পার করা হাথুরুসিংহের কাছ থেকে এমন মন্তব্য হতাশারই বলে তিনি মন্তব্য করেন।
আবার কোচের অন্য সিদ্ধান্তে সমর্থনও জানিয়েছেন পাইলট।
ফতুল্লায় এক পেসার খেলানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিতর্ক থাকতেই পারে। কিন্তু লঙ্গার ভার্সন ক্রিকেটে বল করার জন্য আমাদের ক’জন পেসার ফিট এটাও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। তাছাড়া দেশের মাটিতে স্পিনাররাই আমাদের বেশি সাফল্য এনে দিয়েছে।
জুবায়ের হোসেনকে নিয়ে কোচ-অধিনায়ক ও নির্বাচদের মধ্যে ঠেলাঠেলি বহু দিনের। বিশ্বকাপে যা সবার সামনে চলে আসে। জুবায়ের সম্পর্কে তিনি বলেন, অনেকদিন পর বাংলাদেশ একজন লেগ স্পিনার পেয়েছে। তাকে আমাদের একটু সময় দেওয়া উচিত।
‘কিন্তু যে ছেলে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্যতা রাখে, পরবর্তী সময়ে বিপিএল-ঘরোয়া লিগে তার দল না পাওয়া হতাশার। আমি তো বলবো, জুবায়েরের ক্যারিয়ারকেই ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে,’ এভাবেই নিজের হতাশার কথা জানান সাবেক অধিনায়ক।
আল-আমিন ও এনামুল বিজয়ের দলে ডাক না পাওয়াও ক্রিকেটের খারাপ সংস্কৃতির উদাহরণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বকাপ দলে তারা দুজনই ছিলো। এনামুলের ইনজুরি ও আল-আমিনের শৃঙ্খলা ভঙ্গে দুজনকেই দেশে ফিরে আসতে হয়। কিন্তু পরবর্তিতে তাদের আর দলে ডাকা হচ্ছে না। আর কি কারণে তারা দলে নেই সেটাও নির্বাচকরা স্পষ্ট করছেন না।
‘দল যদি এভাবে দু-তিন বছর ধরে একজন খেলোয়াড়কে তৈরি করে পরবর্তিতে বাদ দেয়, তা হলে এটা দলের জন্য খারাপ একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে,’ বলে মনে করছেন খালেদ মাসুদ পাইলট।






