যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবির এক স্টেডিয়ামে বক্তৃতার মধ্য দিয়ে পিতৃভূমিতে তার সফর শেষ করবেন।
এই বক্তব্যে ওবামা বিশেষ করে দু’দেশের মধ্যে মূল্যবোধের বিনিময় ছাড়াও মানবাধিকার বিষয়ে কথা বলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা পরে ইথিওপিয়ার উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইথিওপিয়া সফর করবেন তিনি। ৫৪ টি সদস্য দেশের আফ্রিকান ইউনিয়নে (আইইউ) মঙ্গলবার প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবেও ওবামা বক্তব্য রাখবেন।
কেনিয়ায় ওবামার সমাপনী বক্তৃতার স্থান কাসারানি স্টেডিয়ামটি কারাগার হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিতর্কিত। এখানেই গত বছর ইসলামী জঙ্গি দল আল-শাবাবের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে শত শত সোমালিকে আটক রাখা হয়েছিলো।
ওবামা এ ধরনের কার্যক্রমের বিষয়েও দেশটিকে সতর্ক করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কারণ এর ফলে উগ্রবাদের উত্থান হতে পারে এবং বিভিন্ন উপজাতির মধ্যে বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকিও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
শনিবার প্রেসিডেন্ট ওবামা কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট উহুরু কেনিয়াত্তার সাথে নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা করেন। শনিবারের বক্তব্যে আল-শাবাবের মতো ইসলামি জঙ্গি দলগুলোর মোকাবিলায় কেনিয়ার সরকারের জোরালো ভূমিকার স্বীকৃতি দেন ওবামা।
এই জিহাদি গ্রুপ কেনিয়ায় বিভিন্ন সময়ে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো যার মধ্যে রয়েছে ২০১৩ সালে নাইরোবির ওয়েস্টগেটে এক বিক্রয়কেন্দ্রে এবং এপ্রিলে গ্রাসিয়াতে এক ভয়াবহ হামলা। এর ফলে প্রায় ১৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে।
প্রেসিডেন্ট ওবামা কেনিয়ার প্রেসিডেন্ট কেনিয়াত্তার সাথে দ্বিপক্ষীয় আলোচনাকালে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকারের কথা জানান। কিন্তু সমকাম অধিকারের বিষয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিলো। এক্ষেত্রে বৈষম্যের বিরুদ্ধে ওবামার অবস্থানের বিপরীতে কেনিয়া একই মূল্যবোধ ধারণ করে না বলে জানান কেনিয়াত্তা।
পিতৃভূমি কেনিয়ায় শুক্রবার প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে সফর শুরু করেন বারাক ওবামা।







