সব ধরনের সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধেই বাংলাদেশের অবস্থান বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবেদল আল জুবের দেখা করতে এলে বাংলাদেশের এ অবস্থানের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।
সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশ সহায়তা করবে।
তিনি বলেন, কিছু মানুষ ধর্মের নামে যেসব কর্মকাণ্ড করে বেড়াচ্ছে তারে ফলে শান্তির ধর্ম ইসলামের দুর্নাম হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নের কথা তুলে ধরে বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য শিক্ষাও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে।
বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ ছাড়াও সৌদিপ্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিক, বিনিয়োগ এবং দুই দেশের সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র নিয়েও কথা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশী শ্রমিকদের নিয়মিত করার জন্য সে দেশের সরকারকে ধন্যবাদ জানান। শ্রমিকদের আরো দক্ষ করে বিদেশের পাঠানোর লক্ষ্যে দেশে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের সহযোগিতাকে আরো এগিয়ে নিতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের নতুন ক্ষেত্র বের করতে হবে। বাংলাদেশে সৌদি আরবের আরো বিনিয়োগ দেখারও প্রত্যাশা করেন প্রধানমন্ত্রী।
দেশকে উন্নত সম্মৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মানুষের কল্যাণে জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের নেতাদের দ্বি-পাক্ষিক সফরের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবেদল আল জুবের বলেন, তারাও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তা না করা গেলে এক জায়গা থেকে অন্যত্র ছড়াতে থাকবে।
সন্ত্রাসবাদ দমনের সচেতনতা সৃষ্টিতে গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকেও সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীতা তুলে ধরেন তিনি।
সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তি, ক্ষমা ও ভালবাসার শিক্ষা দেয়। অথচ সন্ত্রাসবাদীর ইসলামের এ মূলবোধগুলোকে ধ্বংস করছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়নের কথাও বৈঠকে তিনি তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে ভবিষ্যতে পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলিতে সহযোগিতা আরো বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
গত বছরের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি ৩৪টি মুসলিম প্রধান দেশ নিয়ে যে সামরিক জোট গঠনের ঘোষণা দেয় সৌদি আরব তার অন্যতম সদস্য বাংলাদেশ।







