এশিয়া কাপে অলিখিত সেমিফাইনাল হয়ে উঠেছে পাকিস্তান-বাংলাদেশের বুধবারের ম্যাচটি। জয়ী দল দুবাইয়ে শুক্রবারের ফাইনালে খেলবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতের বিপক্ষে। মিরপুরে গত আসরের (টি-টুয়েন্টি ফরম্যাট) ফাইনাল খেলেছিল বাংলাদেশ-ভারত। এবারও আগের দুই প্রতিপক্ষকেই শিরোপার মঞ্চে দেখছেন বিকেএসপির সাবেক কোচ, ক্রিকেট বিশ্লেষক নাজমুল আবেদিন ফাহিম।
আরব আমিরাতে আসরের প্রতিটি ম্যাচেই ধুঁকেছে বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। তামিম ইকবাল ছিটকে পড়ায় দুর্দশা আরও বেড়েছে। তিন ম্যাচে শুরুতে উইকেট বিলিয়ে ২২গজ ছেড়েছেন শান্ত। তাতে চাপ বেড়েছে মিডলঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের। কখনও পুষিয়ে নিতে পেরেছেন, আবার কখনও পারেননি রিয়াদ-মুশফিকরা। শুরুর জুটি নিয়ে চিন্তা থাকলেও পাকিস্তানের সঙ্গে তুলনায় বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখছেন সাকিব-তামিমদের প্রিয় মেন্টর নাজমুল আবেদিন।
‘কালকের ম্যাচে সম্ভাবনা যদি ৫১-৪৯ ভাগও হয়, আমি বাংলাদেশকেই এগিয়ে রাখব। কেননা ওদের(পাকিস্তান) খেলার ধরণ দেখে মনে হয়েছে এখনও ওরা পুরনো ধাঁচে খেলছে। ওয়ানডে, টি-টুয়েন্টিতে ভালো বোলিং করলেও আধুনিক ব্যাটিংটা ওরা রপ্ত করতে পারেনি। ওদের দল ভালো, কিন্তু ওয়ানডে ক্রিকেটের পরিবর্তনটার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারেনি। আমার ধারণা, সবদিক থেকে বাংলাদেশই এগিয়ে থাকবে।’
শ্রীলঙ্কাকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে এশিয়া কাপে দুর্দান্ত শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। পরের দুই ম্যাচে টাইগারদের পারফরম্যান্স হয়ে পড়ে বিবর্ণ। ফাইনালে ওঠার পথ থেকে যখন ছিটকে পড়ার শঙ্কায় দল, তখনই ঘুরে দাঁড়ায় টিম টাইগার্স।
রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর মোস্তাফিজের শেষ ওভারের বোলিং জাদুতে আফগানিস্তানকে ৩ রানে হারিয়ে ফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখে বাংলাদেশ। নাটকীয় জয়ে পুরো দল ফিরে পেয়েছে হারানো আত্মবিশ্বাস। পাকিস্তান-বধের জন্য মাশরাফী-সাকিবদের মাঝে যে মানসিকতা থাকা দরকার, সেটি আছে বলেই মনে করছেন নাজমুল আবেদিন।

‘পাকিস্তানের বিপক্ষে এ জাতীয় ম্যাচ জিততে যে মানসিকতা নিয়ে মাঠে যাওয়া দরকার, সেটা আমাদের দলের আছে। শেষ ম্যাচটি যেভাবে জিতেছে, সেটা মানসিকভাবে ওদের যথেষ্ট চাঙ্গা রাখবে। তারা জানে অনেক জায়গাতে তারা খারাপ করছে, তারপরও একটা মিনিমাম পারফরম্যান্স কিন্তু হচ্ছে।’
‘আমরা কিন্তু প্রতিটি ম্যাচে টপঅর্ডারে ব্যর্থ হচ্ছি এবং পরে তার বোঝাটা মিডলঅর্ডারের ওপর এসে পড়ছে। কোনদিন মুশফিক খেলেছে, কোনদিন মিঠুন, আবার কোনদিন কেউই খেলতে পারেনি। ওটা পেরিয়ে এসে বাংলাদেশ এখন এমন একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছে, যেখান থেকে ফাইনাল খেলা সম্ভব। সেই দরজা খোলা আছে। বিশেষ করে আফগানিস্তানের বিপক্ষে জয়ের যে অভিজ্ঞতাটা আছে, সেটা বাংলাদেশকে মানসিকভাবে এগিয়ে রাখবে।’ যোগ করেন প্রাজ্ঞ এ ক্রিকেট কোচ।
টানা দুই ম্যাচ জিতে ফাইনাল নিশ্চিত করে ফেলেছে ভারত। সুপার ফোরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে হারিয়েছে তারা। যে দুটি দল আবার জিতেছে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। তাতে এক ম্যাচ আগেই সম্ভাবনা শেষ হয়ে গেছে আফগানদের। ফাইনালের আশা টিকে আছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের। বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৫.৩০ মিনিটে মাঠে গড়াবে অলিখিত সেমিফাইনাল হয়ে ওঠা ম্যাচটি।







