ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক থেকে ছোট্ট যে রাস্তাটি মুজগুন্নী এলাকার দিকে গেছে তার নাম ‘কাজী মানজারুল ইসলাম রানা সড়ক’। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খুলনা সিটি কর্পোরেশন আনুষ্ঠানিকভাবে এর নামফলক খুলে দেন। সাদা পাথরের ফলকে কালো অক্ষরে লেখা আছে জাতীয় দলের কৃতী ক্রিকেটার কাজী মানজারুল ইসলাম রানার নাম।
সে বছরের ১৬ মার্চ মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন জাতীয় ক্রিকেট দলের অলরাউন্ডার মানজারুল ইসলাম রানা। তার অকাল প্রয়াণের ১০ বছর আজ। রানার স্মৃতি বুকে নিয়ে মুজগুন্নীর ওই বাড়িতেই থাকেন তার মা জামিলা খাতুন।

খুলনায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট বা ঘরোয়া লিগের ক্রিকেট ম্যাচ হলে সাবেক সতীর্থ রানার বাড়িতে রানার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে আসেন মাশরাফি বিন মুর্তজারা। অবশ্য শুধু খুলনায় খেলা হলেই না, সব সময়ই প্রয়াত বন্ধু জননীর খবরা-খবর নেন জাতীয় ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি।
চ্যানেল আই অনলাইনকে জামিলা খাতুন বললেন, ‘খেলা দেখা হয় না। টেলিভিশনে খবর শুনে আর পত্রিকা পড়ে জানি যে বাংলাদেশ দলে জিতেছে। গর্বে বুকটা বড় হয় আবার খানিকবাদেই দীর্ঘশ্বাস ছাড়ি… ঈশ যদি আমার রানাটা থাকতো।’

তিনি বলেন, ‘মাশরাফি যেনো আমার আরেকটা সন্তান। ও যখন ফোন করে তখন মনে হয় আমার কেউ আছে। তবুও একটা শূণ্যতা তো গত দশ বছর ধরে আমি বয়ে চলেছি। এ ব্যথা শুধু মা ছাড়া আর কেউ বুঝবে না।
মুজগুন্নীতে রানাদের বাড়িটা দুইতলা। রানার মৃত্যুর পর দুইতলা পূর্ণ হয়েছে। তার মৃত্যুর পর ক্যান্সারের কাছে পরাজিত হয়ে চলে গেছেন রানার বাবাও। বাড়ির উপরের তলার একটা কক্ষ দরজা বন্ধ।

এ ঘরটি সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন জামিলা খাতুন। রানার ব্যবহৃত সবকিছু আছে ওই রুমে। বিছানা, টেবিল, টেবিলের ওপরে পড়ে আছে বিভিন্ন সময়ের ক্রিকেট অ্যাওয়ার্ডগুলো। শো-কেসে সাজানো অসংখ্য ম্যান অব দ্য ম্যাচ এবং সিরিজের পুরস্কার। লাল-সবুজের গর্বিত ৯৬ নম্বর জার্সিটাও ঝুলে আছে হ্যাঙ্গারে। ধুলো থেকে ছেলের জার্সিটা বাঁচাতে তাতে আলাদা পলিথিন প্যাক করেও রেখেছেন মা। সবকিছুই আছে শুধু রানা নেই।
খাটের পাশেই ক্রিকেট কিটসব্যাগ। কালো রঙের ব্যাগের একপাশে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের লোগো আর ওপরে সাদা অক্ষরে লেখা ‘রানা’। যেনো কিছুক্ষণ আগেই মাঠ থেকে ফিরেছে প্রিয় সন্তান। এভাবেই এগুলোকে প্রতিদিন একবার করে দেখেন আর নীরবে চোখের পানি ঝরান জামিলা খাতুন।







