পরিবারই একটি শিশুর জীবনে শিক্ষা লাভের প্রথম স্কুল। এখনা থেকেই শিশু বয়সে একজন মানুষের মধ্যে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি আর আদর্শের বীজ রোপন করা হয়। বাবা-মা, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে শেখা আচরণই শিশুটিকে পরবর্তীতে তার জীবন গঠনে সাহায্য করে। তবে আজকের যুগের শিশুদের ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে বাবা-মাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়। সেই সচেতনতায় কিছু টিপস:
জীবনের লক্ষ স্পষ্ট করে বুঝিয়ে বলুন: সব বাবা-মাই চান তার সন্তান দায়িত্ববান, সুস্বাস্থ্যের অধিকারী, স্বাধীনচেতা ও সুখী মানুষ হিসেবে জীবন গড়ে তুলবে। ৮ থেকে ১০ বছর বয়সে থেকে ছেলে-মেয়েদের মধ্যে ভালো মন্দ বোঝার বোধটি আসতে থাকে। আর তখন থেকেই অভিভাবকদের উচিৎ জীবনের লক্ষ্য, কোন কাজটি করা উচিৎ আর কোনটি করা উচিৎ নয়। এখন থেকেই ওর কী কী দায়িত্ব পালন করা উচিৎ সেই বিষয়গুলো স্পষ্ট করে সন্তানকে বুঝিয়ে বলা।
সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে সন্তানের মনের ইচ্ছা জানুন: বেশিরভাগ সময় অভিভাবকরা যে কোনো বিষয়ে সন্তানের মনের ইচ্ছা না জেনে তার ওপর সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেন। কিন্তু কখনোই তা করা উচিৎ নয়। এতে করে সন্তানেরা পরবর্তী জীবনেও প্রতিটি ক্ষেত্রে বাবা-মার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। আবার কোনো কোনো ছেলে-মেয়ে নিজের ইচ্ছা প্রকাশ করতে না পারায় মনের ভিতর রাগ পুষতে থাকে। যা পরাবর্তী জীবনে তার বদ মেজাজী আচরণের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কিশোর বয়সে সেই রাগ প্রকাশ করে, বাবার মার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়।
সন্তানের মধ্যে পরিবর্তন দেখলে নতুন কিছু পরিকল্পনা করুন: বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের মধ্যে বিভিন্ন ধরণের পরিবর্তন আসে। কখনো কখনো সেই পরিবর্তনটি নেতিবাচক হতে পারে। তাতে বিচলিত হয়ে পড়বেন না। বরং সন্তানের সঙ্গে সময় দিন। ঠান্ডা মাথায় বসে ওর সঙ্গে আলোচনা করুন। ওর মনের ভিতর কী চলছে তা জানুন। শাসন না করে সমস্যাটি সমাধানে নতুন কিছু পরিকল্পনা করুন।
সুন্দর একটি রুটিন তৈরি করে দিন: গবেষকরা বলেন, খারাপ বা দুষ্ট ছেলে-মেয়ে বলে কিছু নেই। সন্তানদের বখে যাওয়ার পিছনে দায়ী থাকে খারাপ ও কঠোর রুটিন। সন্তানের আদর্শ জীবনে গঠনে বাবা মাকে প্রথম থেকেই প্রতিদিনের কার্যকলাপের জন্য একটি সুন্দর রুটিন করে দিতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে সেই রুটিনে যেন সন্তানদের রিলেক্স’র জন্য, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য যথেষ্ট সময় থাকে। একটি সুন্দর ডেইলি রুটিন আপনার সন্তানের জীবনে সুন্দর গতি নিয়ে আসবে।
ভালো কাজের জন্য প্রশংসা করুন: সন্তানরা ভালো কোনো কাজ করলে, পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করলে বা বাসার কোনো কাজ করলেও ওকে অভিন্দন জানান। ওর প্রশংসা করুন। দেখবেন এতে ওর মধ্যে ভালো কাজ করার এক ধরণের স্পৃহা আসবে। বড়দের আরো প্রশংসা পাওয়ার জন্য ও আগ্রহী হয়ে উঠবে।
বাবা মাকে মনে রাখতে হবে ছোট ছেলে-মেয়েদের মন অনেক কোমল থাকে। তাই জীবনের শুরুতে সন্তানদের মধ্যে যে আদর্শের বীজ বুনবেন ওর ভবিষ্যত জীবনে তারই প্রতিফলন হবে।







