একি বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক!
গত ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এক প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ক্ষমতা বেশি দিন থাকে না। তাই ক্ষমতার অপব্যবহার করবেন না। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় না থাকলে টাকাপয়সা নিয়ে পালাতে হবে। সেটা কি ভাবেন না? এখন যে টাকাপয়সা রোজগার করছেন, এই টাকা নিয়ে তখন পালিয়ে বেড়াতে হবে।’
একথার অর্থ কি দাঁড়ায়? আওয়ামী লীগ করে বর্তমানে নেতা-কর্মীরা প্রচুর টাকাপয়সা কামিয়ে নিচ্ছেন। তা হলে সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন জাগে সেটা কিভাবে কামাচ্ছেন? বৈধ না অবৈধ উপায়ে?
আওয়ামী লীগ দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা পার করছে। ক্ষমতায় একবারের বেশি থাকলে কি নেতারা কিছুটা ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন! তখন কি মুখে যা আসে তাই বলে বেড়ান! তা না হলে এমন কথা কেমন করে তার মত একজন ডাকসাইটে নেতা বলতে পারেন। এতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে পারে, সে কথা একবারও ভাবলেন না?
তিনি যে কথা বলেছেন সেখানে একচুলও হয়ত মিথ্যে নেই। কারণ উনি নিশ্চয়ই জানেন দলের কোন কোন নেতা কিভাবে টাকাপয়সা কামাচ্ছেন। আর এটা তো এ দেশের রাজনীতির একটা কালচার। নির্বাচনের সময় একেকটি দল ভোটের কাঙাল হয়ে বলে বেড়ায় তারা জনগণের জন্য রাজনীতি করেন, আর ক্ষমতায় আসার পরে নিজেদের আখের গোছান। ভোটের সময় যে পরিমাণ টাকাপয়সা খরচ করেন জয়ী হবার পর তা তুলে একশ’ গুণ বেশি কামিয়ে নেন। কারণ পরের বার যদি ক্ষমতায় না আসতে পারে তা হলে যেন অর্থকষ্ট না হয়, সে জন্যই হয়ত যে যার মত আখের গুছিয়ে নেন। এভাবেই চলে আসছে এ দেশের রাজনীতি। এটা দিনের আলোর মত সত্য।
কিন্তু দিনের আলোর মত এই সত্য বিষয়টা কিভাবে একজন ক্ষমতাসীন দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা বলতে পারেন সেটা নিয়ে খোদ আওয়ামী লীগের মধ্যে চলছে অসন্তোষ। অনেকে প্রকাশ্যে কেউ বা গোপনে কানাঘুষা করছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম তো বলেই ফেলেছেন, প্রকাশ্যে কথা বলার সময় আরেকটু সতর্ক হওয়া উচিত। কেউ কেউ বলেছেন, যে কথা বিএনপি নেতা-কর্মীদের বলার কথা সে কথা সাধারণ সম্পাদক বলে দিয়েছেন। এ কথা বলে তিনি পক্ষান্তরে প্রমাণ করে দিলেন যে আওয়ামী লীগ লুটেরার দল। এখন ক্ষমতায় আছে বলে কেউ তাদের টিকিটা ধরতে সাহস পাচ্ছে না। যখন ক্ষমতা থেকে বিচ্যুতি ঘটবে তখন এই অবৈধ উপায়ে কামানো টাকাপয়সা নিয়ে পালিয়ে বেড়াতে হবে।
তিনি আসলে নেতা-কর্মীদের ভাল উপদেশই দিতে চেয়েছেন। একপ্রকার সতর্কবার্তা দিতে গিয়ে মুখ ফসকে সত্য কথাটা বলে ফেলেছেন। আর জাতি জেনে গেল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নানাভাবে অর্থ উপার্জন করছেন।
নিন্দুকেরা এটাকে বলে বেড়াবে ক্ষমতার দম্ভ? এ দম্ভের কারণে আগামীতে পরাজয় নেমে আসবে। তখন আজকের এই কথাটাকে কোড করে তখনকার ক্ষমতাসীন দল এদের বিচার চাইবে বাংলার মানুষের কাছে। বড় গলায় বলে বেড়াবে, আপনাদের মনে আছে আওয়ামী লীগে’র সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চট্টগ্রামে এক প্রতিনিধি সভায় কি বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন ‘ক্ষমতায় না থাকলে টাকাপয়সা নিয়ে পালাতে হবে।’ কোথায় সেইসব নেতারা? বাংলার জনগণ জানতে চায়।
যারা দায়িত্বশীল নেতা, তারা কথাবার্তায় আরেকটু দায়িত্ববান হবেন, এটাই জাতি আশা করে। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অনেক পরিশ্রমে গড়ে তোলা আওয়ামী লীগে’র নেতাদের কাছ থেকে দেশবাসী এটাই কামনা করে।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)







