গেম ওভার, যে শহরে টাকা ওড়ে এবং ট্রল বানিয়ে তুমুলভাবে আলোচনায় আসা জনপ্রিয় নির্মাতা সঞ্জয় সমদ্দার। বিশেষ করে থ্রিলার গল্প ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তিনি মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন।
ভালোবাসা দিবসে (১৪ ফেব্রুয়ারি) ওটিটি প্লাটফর্ম আই থিয়েটারে মুক্তি পেতে যাচ্ছে সঞ্জয় পরিচালিত নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লোহার তরী’। এই গল্প দিয়ে আলোচিত এ নির্মাতা রহস্য রোমান্স ও সাসপেন্স তুলে আনার চেষ্টা করেছেন। যার ইঙ্গিত আছে প্রকাশিত ট্রেলারে। এতে অভিনয় করেছেন তানজিন তিশা, মনোজ, শাহেদ আলী, লেনিন, সৌমি, ডন, ইমাজ প্রমুখ।
মূলত ‘লোহার তরী’ থ্রিলার ও লঞ্চে একটি খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নির্মিত হয়েছে। চ্যানেল আই অনলাইনকে সঞ্জয় বলেন, থ্রিলার হলেও এটি প্রেমের গল্পও বটে। দিনশেষে এটি একটি অন্যরকম ভালোবাসার গল্প। ভালোবাসাকে রূপ দেয়ার জন্য রীতিমত এক যুদ্ধ। নির্দিষ্ট ঘরানায় আটকে থাকা নয়, আমার এক্সপেরিমেন্টাল কাজ করতে ভালো লাগে।
‘লোহার তরী’র বেশিরভাগ শুটিং হয়েছে লঞ্চে। ঢাকায় একদিন শুটিং হয়েছে। পরিচালক বলেন, লঞ্চের একটি ফ্লোর ভাড়া করে শুটিং করতে করতে বরিশাল গিয়েছিলাম। আমরা ৭দিন ধরে শুটিং করেছি। গল্পটা লঞ্চে শুরু হয়ে লঞ্চেই শেষ হয়। গল্পটা খুবই আনপ্রেডিকটেবল। দর্শক দেখে শুরু থেকে যা ভাববে তার উল্টোটা হবে। এসবের মধ্যেও ছোট ছোট কিছু বার্তা থাকবে।
‘জানতাম না যে লঞ্চ রাত তিনটার মধ্যে বরিশালে পৌঁছে যায়। এজন্য শুটিং টাইম কম পেয়েছি। লঞ্চের মধ্যে ভাসমান অবস্থায় শুটিং করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জের কাজ ছিল। ইঞ্জিনের শব্দ, এত মানুষ সবকিছু মিলিয়ে লঞ্চে শুটিং করতে কষ্ট হয়েছে।’
কদিন আগে ‘লোহার তরী’র ট্রেলার প্রকাশিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগে মাধ্যমে প্রকাশিত ট্রেলারটি দর্শকদের আগ্রহ বাড়িয়েছে। ট্রেলারে দেখা যায়, তানজিন তিশা লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দেস। নির্মাতা জানালেন, ‘সত্যি সত্যি তিশা ঝাঁপ দিয়েছিলেন। চরিত্রটি বিশ্বাসযোগ্য করানোর জন্য এমন দৃশ্য রাখা হয়েছে।’
সঞ্জয় বলেন, দৃশ্যটা বাস্তবসম্মত করার বিকল্প ছিল না। কোনো প্রকার ডামি ব্যবহার করা হয়নি। নিরাপত্তা টিম সাহস দিয়েছিল। এরপর তিশা নদীতে ঝাঁপ দেয়। সবকিছু প্রস্তুত ছিল একবারেই দৃশ্যটি ওকে হয়ে যায়।
তানজিন তিশা বলেন, সঞ্জয় দাদার সঙ্গে কাজ করতে কমফোর্ট ফিল করি। উনি যখন আমাকে গল্পটা শোনালেন তখন দেখলাম যে, এটা নারী প্রধান খুবই চমৎকার একটা গল্প। একটা দৃশ্যে আমি লঞ্চ থেকে নদীতে ঝাঁপ দিয়েছি। যদিও আমি খুব ভালো সাঁতার জানিনা, তারপরও এটা করেছি। সাঁতার জানলেও স্রোতের মধ্যে নদীতে সাঁতার কাটা খুব সহজ কাজ নয়। সাঁতার কেটে ডান দিকে আসতে চাইলে স্রোত আমাকে বামদিকে নিয়ে যেত। আমিতো এক পর্যায়ে লঞ্চের নিচে চলে যাচ্ছিলাম!
তিনি বলেন, এটা আমার জন্য খুবই ভয়ংকর একটা অভিজ্ঞতা ছিলো। তারপরও আমি চেষ্টা করেছি গল্প ও চরিত্রের প্রয়োজনে সেরাটা দিয়ে কাজ করতে। ওইটার একটা ছোট ভিডিও দেখেছি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এটার কারণে হয়তো কাজটি নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বেড়েছে অনেক। তবে আমি অনেক আশাবাদী কাজটি নিয়ে। আমার বিশ্বাস কাজটি দর্শকের ভালো লাগবে।








