পশ্চিম হিমালয়ের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় সংঘর্ষে জড়িয়েছে ভারত ও চীনের সেনারা। মঙ্গলবার ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ওই সংঘর্ষে দুই দেশের সৈন্যরা পরস্পরের প্রতি পাথর ছুঁড়ে মারে, এতে উভয়পক্ষেই কয়েকজন সামান্য আহত হন।
ভারতের সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানায়, ভারতীয় সীমানার প্যাংগোং লেকের কাছে চীনা বাহিনী প্রবেশের চেষ্টা করলে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তবে চীনের দাবি তারা নিজেদের সীমানাতেই ছিল।
সর্বশেষ এই সংঘর্ষ ছাড়াও সাম্প্রতিক দেশদুটি ২ মাস ধরে দোকলাম এলাকায় মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। জায়গাটি চীন, ভারত ও ভুটানের সীমান্ত।
ভারতীয় সেনাবাহিনীর একজন কর্মকর্তা পিটিআই-কে জানায়, ভারতের লাদাখ অঞ্চলের কাছে চীনা বাহিনীর অনুপ্রবেশ ঠেকাতে তারা মানব দেয়াল গড়ে তুলতে বাধ্য হয়েছিল।
তবে তিনি এমন ঘটনাকে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন জানিয়ে বিবিসিকে বলেন, গণমাধ্যমের প্রতিবেদনকে নিশ্চিত করতে বা অস্বীকার করতে পারবো না। কিন্তু ‘এই ধরণের ঘটনা হয়ে থাকে’ বলেই অভিমত তার। ‘এমন ঘটনার নজির এটাই প্রথম নয়’ বলেও যোগ করেন তিনি।
এই সংঘর্ষের সময় চীনা বাহিনী তাদের সীমানার ভেতরেই ছিল উল্লেখ করে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, “ভারতকে চীনের মাটি থেকে দ্রুত এবং নিঃশর্তভাবে তাদের সেনা ও সরঞ্জাম প্রত্যাহার করতে হবে।”
সীমান্ত এলাকায় সম্মত সীমারেখা নির্ধারিত না হওয়াটাই বিরোধের কারণ মানছে ভারত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ভারত ও চীনের মধ্যে সাধারণভাবে সীমান্ত এলাকায় লাইন অব একচ্যুয়াল কনট্রোল (এলএসি) নির্ধারিত নয়।
“এলএসি নিয়ে ধারণাগত ভিন্নতার কারণেই এমন পরিস্থিতি (সংঘর্ষ) সৃষ্টির কারণ, তা এড়ানো যেতো যদি সীমান্ত লাইন নিয়ে একটি ঐক্যমত থাকতো।”
সাম্প্রতিক সংঘর্ষের জায়গা থেকে আরও পূর্বে দোকলাম মালভূমিতে দুই দেশের সেনাবাহিনী মুখোমুখি অবস্থায় রয়েছে। ভারতে এলাকাটি দোকলাম নামে পরিচিত এবং চীনের কাছে তা দোংলাং।
জুন মাসে এই অচলাবস্থা সৃষ্টির পর থেকে উভয় পক্ষই সীমান্তে আরও সেনা মোতায়েনের মাধ্যমে তাদের শক্তি বৃদ্ধি করেছে। পরস্পরের প্রতি পিছু হটার আহ্বান জানিয়ে আসছে তারা।
১৯৬২ সালে সীমানা নিয়ে ভারত-চীন যুদ্ধে জড়িয়েছিল। এরপরও সীমান্ত নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বিরোধ এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যা নিয়ে সময় সময় উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়।







