আপিল বিভাগে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায়ের পর সংসদের চলতি অধিবেশনের প্রথম দিনে দেশের সর্বোচ্চ আদালত, প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি এবং জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের নিয়ে সংসদ সদস্যরা আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন দাবি করে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
মঙ্গলবার দুপুরে শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি জানান সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উদ্দিন খোকন। বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
তবে এই সংবাদ সম্মেলনের পর পরই একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সহ সভাপতি অজি উল্লাহ।
এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সংবাদ সম্মেলন ছিল রাজনৈতিক আদর্শগত ও উদ্দেশ্যে প্রণোদিত। এ ধরনের সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিচার বিভাগের কোনো স্বার্থ রক্ষা হয়নি, হবেও না। বরং তা বিচার বিভাগের সাথে সরকারের সম্পর্কের বিষয়ে জনগণের মাঝে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি করবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জয়নুল আবেদীন বলেন, আপিল বিভাগ ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেওয়ার পর থেকেই সরকার দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন। গত ৯ জুলাই সংসদে সরকার দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতা ও মন্ত্রীরা এ রায়ের বিপক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন।
সংসদ সদস্যরা সংসদ পরিচালনার বিধি-বিধান সম্ভবত ভুলে গিয়েছিলেন এমন দাবি করে জয়নুল আবেদিন বলেন, যে ব্যক্তি তার সম্পর্কে সমালোচনার জবাব দিতে পারবে না, অর্থাৎ সংসদে উপস্থিত নেই তার সম্পর্কে সংসদে কোনো আলোচনা করা যাবে না।
অথচ সংসদ সদস্যরা দুইজন প্রবীণ আইনজীবী ড.কামাল হোসেন ও ব্যারিস্টার এম আমীর-উল ইসলামের সম্পর্কে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছেন। এমনকি প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন। যা সুষ্পষ্টভাবে আদালত অবমাননার শামিল।
এসব বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে জয়নুল আবেদিন বলেন, দেশের সর্বোচ্চ আদালত, প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি ও দেশের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সম্পর্কে সংসদে আপত্তিকর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং এসব বক্তব্য প্রত্যাহার করতে স্পিকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি।
এদিকে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আইনজীবী সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ সভাপতি মো. অজি উল্লাহ বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর মামলা চলাকালে এই সংশোধনীর বিষয়ে সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। এতে প্রতীয়মান হয় যে, সংসদ বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় কোনো হস্তক্ষেপ করেনি, রায়কে প্রভাবিত করার চেষ্টাও করেনি। রায়ের গঠনমূলক সমালোচনা কখনোই বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ নয়। আর সংসদের ভেতরে আলোচিত কোনো বিষয় নিয়ে সমিতির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা রাজনেতিক উদ্দেশ্য হাসিল ছাড়া আর কিছুই নয়।
এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সমিতির সভাপতি সম্পাদক রাষ্ট্রের দুটি স্তম্ভের মধ্যে ফাটল ধরানোরো চেষ্টা করছেন দাবি করে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, সমিতির সভাপতি সম্পাদক দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আজকের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলেন এবং সংবাদ সম্মেলনে তাদের দেওয়া বক্তব্য সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির বক্তব্য নয়।
এই সংবাদ সম্মেলনে সমিতির কার্য নির্বাহী কমিটর ছয় সদস্য ছাড়াও আওয়ামী পন্থী আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।








