যেনো মৃত্যু না হয় এমনভাবে শ্বশুরের মাথা ফাটিয়ে ৪০ লাখ টাকা লুটের পরিকল্পনা করেছিলো এক ডাকাত সর্দার। বোমা ফাটিয়ে আকিজ গ্রুপের বেতনের টাকা লুটের পরিকল্পনাও ছিলো গত সেপ্টেম্বর মাসে গার্মেন্টসের ৭২ লাখ টাকা লুটের অভিজ্ঞতা থাকা ওই গ্রুপের। তবে তার আগে অন্য এক ডাকাতির প্রস্তুতির সময় ডিবি পুলিশের হাতে ধরা খেয়েছে পুরো গ্রুপসহ ডাকাত সর্দার আবু সাঈদ।
সর্দার আবু সাঈদেরও অবশ্য একজন সর্দার আছে। তার নাম মিজান। চাকুরিচ্যুত সেনা সদস্য মিজানকে ধরার জন্য অভিযানে নেমেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দারা বলছেন, চাকরিচ্যুত মিজানের নেতৃত্বে গ্রুপটি ঢাকা এবং আশপাশের এলাকায় বড় ধরণের ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত।
সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানার বসিলা রোডে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে ধরা পড়ে ডাকাত সর্দার আবু সাঈদসহ তার দলের ৮ সদস্য। সেসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়ে ডাকাতির কাজে ব্যবহার করা একটি মাইক্রোবাস, একটি প্রাইভেট কার, তিনটি বিদেশী পিস্তল, গুলি, ১২টি ককটেল ও এক কেজি গান পাউডার।
ডিবির ডিসি শেখ নাজমুল আলম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ডাকাতরা বলেছে, তারা আগামী ১ জুন আকিজ গ্রুপের কর্মচারিদের বেতনের টাকা ব্যাংক থেকে তোলার পর তা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করছিলো। সেজন্য তারা একটি মাইক্রোবাসও ভাড়া করে এনেছিলো।
গত সেপ্টেম্বর মাসে এই গ্রুপটি গাজীপুরের বোর্ড বাজারে এন এ সোয়েটার কারখানার কর্মচারিদের বেতনের ৭২ লাখ টাকা লুট করেছিলো বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
গোয়েন্দা পুলিশের ডিসি নাজমুল আলম বলেন, ডাকাত দলনেতা আবু সাইদ তার শ্বশুরের টাকাও লুটের পরিকল্পনা করেছিলো। সে বলেছে, তার শ্বশুর ব্যাংক থেকে ৪০ লাখ টাকা তোলার পর মাথায় আঘাত করে টাকা ছিনিয়ে নেয়ার সব যোগাড়-যন্ত্র ছিলো। তবে দলের সদস্যদের বলা ছিলো, এমনভাবে আঘাত করতে হবে যাতে শ্বশুরের মৃত্যু না হয়।
ব্যাংক ডাকাত গ্রুপ আটক
গোয়েন্দা পুলিশের আরেকটি দল একই রাতে বঙ্গভবনের সামনে থেকে একটি মাইক্রোবাস থেকে অস্ত্রসহ তিন ডাকাতকে গ্রেফতার করে। সেসময় গ্রুপের দু’জন পালিয়ে যায়।
ডাকাতরা পুলিশকে জানিয়েছে, ব্যাংক ডাকাতিসহ বড় ধরণের কয়েকটি ছিনতাইয়ের সঙ্গে তারা জড়িত। তবে মূলতঃ তারা গাড়ি ছিনতাই এবং ছিনতাই করা গাড়ি দিয়ে অবৈধ অস্ত্রের মুখে রাস্তায় ছিনতাই কাজের সঙ্গে জড়িত ছিলো।
মোটরবাইকের সূত্রে আন্তঃজেলা ডাকাত গ্রুপ আটক
ওদিকে, লালবাগ থানা পুলিশ চকবাজার এলাকা থেকে ছিনতাই হয়ে যাওয়া একটি মোটর সাইকেলের সূত্র ধরে ধামরাইয়ের পলাশপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ১৩ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। পরে তাদের দেয়া তথ্যে ওই বাজারের গনি মিয়ার গোডাউন থেকে ডাকাতির চাল, তেল ও দু’টি ট্রাক উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের লালবাগ এলাকার ডিসি মফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ডাকাত সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় থাকে। ডাকাতির অপারেশনের সময় তারা পরস্পর মোবাইলে যোগাযোগ করে নেয়। তারপর এক জায়গায় সমবেত হয়ে তাদের সঙ্গে থাকা পিকআপ ভ্যানে করে চলতি পথে যে কোনো গাড়ি থামিয়ে মালামাল ছিনতাই করে।
পুলিশ বলছে, ঢাকার আশপাশে কমপক্ষে ২০টি গ্রুপ ডাকাতির ঘটনায় সক্রিয় আছে। এদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।






