অনুশীলন ক্যাম্পে ফিরলেও সতীর্থ আর সাবেকদের দ্বিধাবিভক্তিতে দলে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন মোহাম্মদ আমির। সেই শঙ্কা কাটিয়ে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলের একাদশে ফেরেন তিনি। এর পর শঙ্কা দেখা দেয়, নিউজিল্যান্ডের ভিসা পাওয়া নিয়ে। অবশেষে সে বাধা কেটে গেছে আমিরের। তার জন্য ভিসা অনুমোদন দিয়েছে নিউজিল্যান্ডের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের সরকার আমিরকে তাদের দেশের ভিসা দিয়েছে। ফলে চলতি মাসে দেশটিতে টি২০ ও ওয়ানডে ম্যাচে দেখা যাবে এই বাম হাতি বিস্ময়কর পেসারকে।
ইমিগ্রেশন নিউজিল্যান্ডের এরিয়া ম্যানেজার মাইকেল কার্লে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড সফরের জন্য পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সঙ্গে মোহাম্মদ আমিরের ভিজিটর ভিসাও অনুমোদন করা হয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমির তার কৃতকর্মের সাজা আগে ভোগ করেছে। তাই পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের স্বার্থের কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
সফরে পাকিস্তান তিনটি টি২০ ও তিনটি ওয়ানডে খেলবে। সিরিজ শুরু হবে ১৫ জানুয়ারি, অকল্যান্ডে।
২০১০ সালে ইংল্যান্ড সফরে গিয়ে স্পট ফিক্সিং কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়েন আমির। এরপর দীর্ঘ ৫ বছর ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত ছিলেন তিনি। গতবছরের সেপ্টেম্বরে তার এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হয়।
এরপর ঘরোয়া লিগে বল হাতে আগুন ঝরান এই বাম হাতি পেসার। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও (বিপিএল) সে ধার অক্ষুণ্ন রাখেন। এর ফলে আমিরের জাতীয় দলে ফেরা ছিল সময়ের ব্যাপার।
কিন্তু সতীর্থ মোহাম্মদ হাফিজ ও ওয়ানডে অধিনায়ক আজহার আলী তার ফেরায় বাধা হয়ে দাঁড়ান। আমিরকে ঠেকাতে তারা পাশে পান রমিজ রাজাসহ সিনিয়রদেও। তবে পিসিবি ও সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করে তাকে দলে রাখে।
পরে সিনিয়র খেলোয়াড়, কোচ ওয়াকার ইউনুসের হস্তক্ষেপে আমিরকে পাক শিবিরে মেনে নেন হাফিজরা। কিন্তু নতুন করে আশঙ্কা তৈরি হয়, নিউজিল্যান্ড তাকে খেলতে ভিসা দেবে কিনা। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আমিরকে ভিসা দিতে নিউজিল্যান্ড সরকারকে অনুরোধ জানানো হয়। নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডও এতে সায় দিলে বৃহস্পতিবার আমিরকে ভিসা দেওয়া হয়।
মোহাম্মদ আমির মাত্র ১৭ বছর বয়সে পাকিস্তান দলে অভিষিক্ত হন এবং সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে টেস্টে ৫০ উইকেটে নেন। এরপর তিনি ১৮ বছর বয়সে স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে নিষিদ্ধ হন।







