ইংলিশ স্পিনার জাফর আনসারী জানতেন, দিনের খেলা শেষ হতে আর যেহেতু মিনিট তিনেক বাকি তাই তার এ বলটাই হতে পারে আজকের খেলার শেষ বল।
আনসারীর চেয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যে অংকে কম কাঁচা এমন নয়। তিনিও বুঝতে পেরেছিলেন, দিনের শেষ বলটা খেলতে যাচ্ছেন তিনি।
রিয়াদ যেটা জানতেন না সেটা হলো: শুধু দিনের বা এ টেস্টেরই শেষ বল নয়, বাংলাদেশের নিউজিল্যান্ড সফরের আগে এটাই তিনি শেষ টেস্ট বল খেলতে যাচ্ছেন।
বাংলাদেশের পরের টেস্ট কবে সেটা সম্ভবতঃ না জানলেও আনসারী এটা ভেবেই ওই বলটা করতে এসেছিলেন, এ বলকে তিনি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের জন্য ঢাকা টেস্টের শেষ বল বানাতে চান।
আনসারীর জন্য পরিকল্পনার বিষয়টা খুব কঠিন ছিল না। কারণ তিনি বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পড়তে পারেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, দিনের শেষ বল মনে করে রিয়াদ ওই বলে চার বা ছক্কা হাঁকিয়ে নিজের ৫০ পূর্ণ করে যেমন রাতের ঘুমটা নিশ্চিত করতে চান তেমনি মিরপুরে হাজির কয়েক হাজার দর্শক এবং টেলিভিশনের সামনে থাকা লাখো মানুষের কাছে নায়কও হতে চান।
রিয়াদ এবং তার সতীর্থদের এ নায়ক হওয়ার চেষ্টা এটাই শেষ কিনা বলা যাচ্ছে না, তবে প্রথম যে না সেটাতো সবারই জানা। বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে ওই ১ রানের হারের ম্যাচটা মনে করলেই চোখের সামনে ভেসে উঠবে কীভাবে রিয়াদ এবং মুশফিকুর রহিম ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে ট্র্যাজেডির জন্ম দিয়েছিলেন।
দিনের শেষ বলে রিয়াদের ফিরে যাওয়ায় ফিফটি করে অপরাজিত থাকা ইমরুল কায়েসের (রোববার সকালে) সঙ্গী হবেন মুশফিকুর রহিম। চট্টগ্রামে প্রথম টেস্টে তার আউটের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের জয়ের স্বপ্ন মুছে গিয়েছিল। এবার ঢাকায় শুধু সেই স্বপ্ন বোনা নয়, একে ভিত্তি দেওয়ার গুরুদায়িত্বও তার কাঁধে।
দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১২৮ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ। বাকি ৭ উইকেটে বাংলাদেশ কতোদূর যেতে পারবে তার উপরই নির্ভর করবে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়।
বাংলাদেশের বোলাররা, অাসলে স্পিনাররা (প্রথম ইনিংসে পেসার রাব্বি মাত্র ৩ ওভার বল করেছেন। ওই ৩ ওভারই বাংলাদেশ বোলিংয়ে একমাত্র পেস আক্রমণ যা কোন টেস্টের প্রথম ইনিংসের জন্য রেকর্ডও হতে পারে) যে বল করেছেন তাতে ৩০০ প্লাস মাইনাস টার্গেট বাংলাদেশকে অনেক এগিয়ে রাখবে।
তবে তার আগে ব্যাটসম্যানদের বড় দায়িত্ব পালন করতে হবে। দিনের শেষ বলে চার/ছয় হাঁকাতে গিয়ে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যেভাবে তার উইকেট ছত্রখান হতে দিয়েছেন সেটা যদি ব্যাটসম্যানদের বিজ্ঞাপন হয় তাহলে বড় কিছু আশা করা ঠিক না। কিন্তু ইংল্যান্ডের ১০ নম্বর ব্যাটসম্যান আদিল রশিদকে দেখে যদি টাইগার ব্যাটসম্যানরা কিছু শিখে থাকেন, আর সেটা মাঠে অনুবাদ করতে পারেন; তাহলে আশা করতে পারে বাংলাদেশ।
রেকর্ড গড়া মেহেদি হাসান মিরাজ সতীর্থদের সে কথাটা মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন, ব্যাটসম্যানরা ঠিকঠাক দায়িত্ব পালন করতে পারলে পরের কাজটা স্পিনাররা সারতে পারবেন।








