শেরপুরের সীমান্ত জনপদে বন্যহাতির আক্রমণে এক গৃহবধূসহ তিনজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, ওই গ্রামের ছুরত আলীর স্ত্রী আয়তন নেছা (৪৬), শাহ মাহমুদের ছেলে কৃষক জহুরুল হক ওরফে কালা জহুরুল (৩৫) এবং শাহআলীর ছেলে আব্দুল হাই (৪০)। এ সময় বন্যহাতির আক্রমণে ওই এলাকার আরও চারজন আহত এবং ৫টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও কয়েক একর জমির আবাদ-ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত দেড় মাসে শেরপুরের সীমান্ত জনপদে বন্যহাতির আক্রমণে ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো। ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সেলিম রেজা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পাহাড় থেকে নেমে আসা ৪০/৫০টি বন্যহাতির একটি দল পানবর এলাকায় নেমে এসে ধানক্ষেতে তাণ্ডব চালায়। গ্রামবাসী তখন মশাল জ্বালিয়ে ও লাঠিসোটা নিয়ে হাতির দলকে তাড়া করে। গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে হাতির দলটি আরো বেপরোয়া হয়ে পানবর ও দুধনই এলাকার গ্রামের ঘর-বাড়ির দিকে পালাতে শুরু করে।
এসময় প্রাণ ভয়ে ঘরে লুকিয়ে থাকা ওই তিনজনকে বসতঘর থেকে বন্যহাতি শুড় পেচিয়ে টেনে এনে পায়ে পিষ্ট করলে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হয়। এলাকায় হাতির দলের তাণ্ডব অব্যাহত রয়েছে বলে উল্লেখ করে ইউএনও জানান, পানবর এলাকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় রাত সাড়ে ১০ টার দিকে দমকল বিভাগ ও পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গত ১ অক্টোবর পানবর এলাকায় বন্যহাতির মৃত্যুর ঘটনাস্থলের নিকটেই এ হাতিতাণ্ডবের ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয়রা জানান। চলতি মাসের গত ১০ অক্টোবর রাতে বন্য হাতির আক্রমণে একই উপজেলার উত্তর পানবর গ্রামে এক আদিবাসী কৃষক নিহত হয়। এছাড়া গত সেপ্টেম্বর মাসে হাতির আক্রমণে আরো ৩ জনসহ দেড় মাসে শেরপুরের সীমান্ত জনপদে বন্যহাতির আক্রমণে ৭ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটলো।








