সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধের আরও একটি অভিযোগ করা হয়েছে।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন গত ২০ জুলাই ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চিটাগং রোডে নিহত মো. মেহেদীর বাবা মো. সানাউল্লাহর পক্ষে ১৫ আগস্ট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।
শেখ হাসিনা ছাড়াও যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তারা হলেন: সাবেক সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং তৎকালীন সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যকে।
এছাড়া সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, ডিবি পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ, ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান ও কয়েকজন অসাধু পুলিশ কর্মকর্তা এবং র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ ও কয়েকজন অসাধু র্যাব কর্মকর্তা এবং সদস্যসহ অজ্ঞতনামা অস্ত্রধারী আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী। আর সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গ সংগঠনসমূহ।
আবেদনে গত ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ওই সময়ে আহত হয়ে পরবর্তীতে নিহতরাও এর আওতায় থাকবে এবং ঘটনার স্থান উল্লেখ করা হয়েছে সমগ্র বাংলাদেশ।
অভিযোগে বলা হয়েছে যে, ১ থেকে ৯ নং আসামির নির্দেশে ও পরিকল্পনায় অন্যান্য আসামিরা দেশীয় এবং আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করে সাধারণ নিরস্ত্র ছাত্র–জনতাদের হত্যা করেছে। গত ২০ জুলাই মেহেদী বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারী সাধারন ছাত্রজনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেয়। আন্দোলনরত অবস্থায় আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশ ও আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে। একপর্যায়ে মেহেদীর মাথায় গুলি লেগে মগজ বের হয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে মৃত্যুবরন করে। ঘটনা শুনে বাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে মেহেদীর লাশ দেখতে পান।
এর আগে বুধবার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম অভিযোগটি করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায়। কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত আরিফ আহমেদ সিয়ামের বাবা মো.বুলবুল কবিরের পক্ষে আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।








