শূকরের দেহে মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ উৎপাদনের চেষ্টা করছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানীরা। মানবদেহের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিস্থাপনের জন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যথেষ্ট অভাব রয়েছে বিশ্বজুড়ে। তাই এগুলো সহজলভ্য করার জন্য চলছে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষা।
যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গবেষণা দল এই কাজটি করছে। দলের বিজ্ঞানীরা জানান, তারা গবেষণার অংশ হিসেবে শূকরের ভ্রূণে মানুষের স্টেম সেল (প্রাণীদেহের সাধারণ কোষ, যা বিভাজনের মাধ্যমে পরে বিভিন্ন জাতীয় কোষে পরিণত হতে পারে) ঢুকিয়ে দিয়েছেন। যেন এর মাধ্যমে কাইমেরা নামক মানুষ-শূকর শঙ্কর জাতীয় ভ্রূণ তৈরি হয়।
গবেষকরা জানান, কাইমেরা ভ্রূণ থেকে জন্ম নেয়া শূকরশিশু দেখতে সাধারণ শূকরের মতোই হবে। আচরণও হবে স্বাভাবিক। তবে তাদের নির্দিষ্ট একটি অঙ্গ হবে মানবকোষ দিয়ে গঠিত।
কাইমেরা ভ্রূণগুলো শূকরের দেহে ২৮ দিন পর্যন্ত বড় হতে দেয়া হয়। এরপর গর্ভপাত ঘটিয়ে ভ্রূণ থেকে টিস্যু নিয়ে তা বিশ্লেষণ করা হয়।
কাইমেরা ভ্রূণ দু’টি ধাপে তৈরি হয়। উদাহরণস্বরূপ, মানুষের অঙ্গ হিসেবে অগ্ন্যাশয়ের প্রয়োজন। এখন প্রথমে জিনগত বিন্যাস পরিবর্তনের CRISPR নামক পদ্ধতি ব্যবহার করে শূকরের সদ্য নিষিক্ত একটি ভ্রূণের ডিএনএ সরিয়ে ফেলা হয়। ফলে ভ্রূণটির মাঝে একটি জিনগত ফাঁকা স্থান তৈরি হয়।
এরপর ওই ভ্রূণটিতে কোষ বিভাজনে ভিন্ন কোষ তৈরি করতে সক্ষম এমন স্টেম সেল (আইপিএস) ঢুকিয়ে দেয়া হয়।
বিজ্ঞানীরা আশা করেন, মানবদেহের এই আইপিএস জাতীয় স্টেম সেল শূকরের ভ্রূণের ফাঁকা স্থানের সুযোগ নিয়ে ধীরে ধীরে এর মাঝে মানুষের অগ্ন্যাশয় গঠন করতে পারবে। এভাবে শূকরছানাটি জন্ম নিয়ে বড় হবে স্বাভাবিক শূকরের মতোই। কিন্তু তার অগ্ন্যাশয়টি সহজেই মানবদেহে প্রতিস্থাপন করা যাবে।







