রোহিঙ্গা পরিবার গণনার মাধ্যমে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গার প্রকৃত সংখ্যা জানা এবং সঠিকভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা যাবে বলে মনে করছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। বাংলাদেশে আসা কয়েক লাখ রোহিঙ্গার তথ্য সংগ্রহ করতে মাঠে নেমেছে ইউএনএইচসিআর এর কয়েকটি দল।
কক্সবাজারের বালুখালি ক্যাম্পের সন্নিকটে কুতুপালং ক্যাম্পের বর্ধিত অংশে ৪ অক্টোবর থেকে এই গণনার কাজ শুরু হয়েছে। গণনা কাজে ১২০ জন তথ্য সংগ্রাহে দশটি দল হয়ে কাজ করবে দুই সপ্তাহ ব্যাপি।
৫ লাখ ২৫ হাজার রোহিঙ্গার আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার পরিবার আমলে নিয়ে তারা কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ।এবিষয়ে ইউএনএইচসিআর এর রেজিস্টার লরা জিম্মিমানোরো বলেন, এত জনসংখ্যার খাদ্যসহ অন্যান্য সাহায্য সহযোগিতার জন্য ডাটা খুব গুরত্বপূর্ণ। যদি তাদের সম্পর্কে ও তাদের পরিবার সম্পর্কে না জানা থাকে তাহলে সঠিক ভাবে কাজের ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব নয়।
ইউএনএইচসিআর একটি দলের সঙ্গে কথা বলেন ৭৫ বছরের রোহিঙ্গা দোলু ও তার মেয়ে রেজা। এসময় তথ্য সংগ্রহ করতে থাকা দলের একজনকে স্মার্ট ফোনে তাদের তথ্য সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দোলু তথ্য সংগ্রাহককে তার নাম, জন্ম স্থান, তার পরিবারের জীবিত সদস্য সংখ্যা ছাড়াও অন্যান্য তথ্য প্রদান করেন। এসময় তাদেরকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের নম্বর সম্বলিত হলুদ রঙের লেমিনেটেড করা একটি কার্ড দেয়া হয়।
তাদের জোনে এবং ব্লকে ভাগ করে গণনার কাজ চালানো হচ্ছে। এই কাজের সার্বিকভাবে কাছ থেকে তত্ত্বাবধানে রয়েছে ইউএনএইচসিআর। তথ্য সংগ্রাহকরা জিপিএস এর মাধ্যমে তাদের স্থান ও ছবি নিয়ে র্স্মাট ফোনে আপলোড করেছেন। এবং তাদের থাকার জায়গায় একটি করে নাম্বার দিয়ে প্লাস্টিক কার্ডটি বাঁশের সঙ্গে তাবুতে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।
এ বিষয়ে দোলু বলেন, অবশেষে আমার একটা ঠিকানা হলো, আমি খুব অসুস্থ, ঘুরতে ঘুরতে আমি খুব ক্লান্ত। আমার জীবনে এখন একটা স্থিতিশীলতা আসছে।
কার্ডের ব্যাপারে জাফর আলম বলেন, কার্ড নানা ভাবে তাদের সাহায্য করবে। আমার ১৭ বছরের হারিয়ে ফেলা মেয়েকে খুঁজছি। কার্ড পাওয়ার পরে আমাদের নিজস্ব একটা নাম্বার হয়েছে। সেটা আমি তাদেরকে সেই নাম্বার দিয়ে দিয়েছি যাতে তাকে পেলে আমার এই নাম্বার দিতে পারে।
৪০ বছরের রোহিঙ্গা বাসু বলেন, এরকম কার্ড অাগে আমার ছিলো না, আমার ঠিকানা এখন জোন -১, ব্লক-৫। আমরা কিছু সাহায্য পেতে যাচ্ছি।







