বিপুল জনপ্রিয়তা পাওয়া ‘জন্ম থেকে জ্বলছি মাগো’ গানটি গেয়ে ১৯৮১ সালে সঙ্গীত জগতে পা রাখেন সামিনা চৌধুরী। মূলত শুরুর এই গান দিয়েই শ্রোতাদের হৃদয়-মন জয় করে নিয়েছিলেন তিনি। নিজের সঙ্গীত জীবনের সফলতার সম্পূর্ণ অবদান দিয়েছেন সেই মাকেই। মাকে স্মরণ করে সামিনা বলেন, মায়ের চোখে পানি দেখলে পুরো পৃথিবীটাই যেন উজার হয়ে যেতো।
‘কবিতা পড়ার প্রহর এসেছে’ তুমুল জনপ্রিয় গানের এ শিল্পী চ্যানেল আই অনলাইনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সঙ্গীত আর নিজের ব্যক্তি জীবনের কিছু কথা বলেছেন।
ছোট বেলা থেকেই মাকে অনুকরণ করতেন জানিয়ে সামিনা চৌধুরী বলেন, মায়ের চলাফেরা, কথা বলার ধরণ, সাজ-গোজ এসবই আমাকে মুগ্ধ করতো। তাছাড়া ছোট থেকেই আমি ছিলাম তার অনেক আদরের। মায়ের খুব ভক্তও ছিলাম আমি। তাই এখনো শত ব্যস্ততার মাঝে মা এবং তার বাড়ির কথাই মনে পড়ে আমার।
সঙ্গীতে বেশ ছোটবেলাতেই পারিবারিকভাবে হাতে-খড়ি পাওয়া এই শিল্পীকে তার বড় বোন ও সঙ্গীত শিল্পী ফাহমিদা নবী আর ছোট ভাই পঞ্চম এবং ছোট বোনের সঙ্গে ছোটবেলা কাটানো অনেক স্মৃতি আবেগাপ্লুত করে তোলে। সেইসব স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, ভাই-বোনদের সঙ্গে আগের ভালোবাসার বন্ধন আরো গভীর হয়েছে।
‘আমাদের সম্পর্ক ছোটবেলা থেকে এখন পর্যন্ত তেমনই আছে। তাতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধু বয়সটাই বেড়েছে,’ বলেন সামিনা চৌধুরী।
বড় বোন সম্পর্কে বলতে গিয়ে কিছুটা লাজুক হেসে বলেন, আগেও যেমন তার সঙ্গে গান, সুর, বা গানের কথা নিয়ে কথাকাটাকাটি হতো; এখনো তেমনই হয়। ছোটবেলা বড় অাপুর সঙ্গে ঝগড়া করতে করতে এক পর্যায়ে চুলোচুলিও হয়ে যেতো।
এই সময়ের ঈদ ও আর ছোটবেলার ঈদের মধ্যে কোনটি বেশি আন্দদায়ক জানতে চাইলে সামিনা বলেন, আসলে এ দুইটি ভিন্ন সময়, ভিন্ন আঙ্গিক। আগে ঈদে মায়ের হাতের খাবার খেতাম। ভাই-বোনের সঙ্গে প্রতিবেশীদের বাসায় যেতাম। আর এখন ঈদের সময় নিজেকেই রান্না করতে হয়। রান্না আর মেয়ের জন্য ঈদের জামা তৈরি করেই দিন কেটে যায় আমার। তবে আগেও ঈদে সালামি পেতাম, এখনো পাই।
নিজের গান শুরুর সময়কার বাংলা সঙ্গীত আর এখনকার সময়ের সঙ্গীতের মধ্যে পর্রিবতন নিয়েও কথা বলেন বাংলাদেশের সফল এ শিল্পী। তার মতে, আগের সময়ে সঙ্গীত ছিলো সুন্দর একটি ছকে বাধা। গানের কথা, সুর, গায়ক বা গায়িকা সবই থাকতো একদম পারফেক্ট। আর এখনকার বাংলা গানে অনেকেই এক্সপেরিমেন্ট করতে চায় বলে কিছুই হয় না। পারফেকেশনের জায়গা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে বাংলা সঙ্গীত।
সামিনা চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতে বাংলা গান কোথায় পৌঁছাবে তা আমি কল্পনাও করতে পারি না। কারণ এখানে কোনো কিছুরই পরিকল্পনা ঠিকভাবে হয় না। বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের যে গানগুলো তুলে ধরলে সবাই জানতে পারবে বাংলা গানের গুরুত্ব ও গভীরতা। তার জন্য সুন্দর কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। যে কোনো আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে দেশের খ্যাতিমান শিল্পীদের উপস্থাপন না করে এক একটি গদবাধা গান আর পরিচিত মুখকে উপস্থাপন করা হয়। তাই বাংলা সঙ্গীত বিশ্বে নিজের মতো করে বিকশিত হতে পারছে না।
ইদানিং ক্যামেরার সামনে কম দেখা যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, আমাদের এখানে যার যেই সম্মান পাওয়ার কথা তাকে সেইভাবে সম্মান কেউ দিতে পারেনা। ব্যক্তির সঠিক মূল্যায়ণ করে ব্যক্তিকে মর্যাদা দিতে শিখেনি অনেকেই। তাই এখন আমার আর ক্যামেরার সামনে আসতে বেশি ভালো লাগে না।
তবে খুব শিগগিরই ভক্তরা শুনতে পাবেন রাঘব চ্যাটার্জীর সঙ্গে সামিনা চৌধুরীর ডুয়েট অ্যালবাম ‘একটি বন্ধত্ব’।







