ছোটখাট অপরাধ পেছনে ফেলে শিশু-কিশোরদের ভয়ংকর অপরাধে জড়ানোর প্রবণতা বাড়ছে। ফেনীতে খেলাধুলা নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আরাফাত হোসেন (১৩) নামে এক ছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ওই ছাত্রকে হত্যা করে মাটিতে লাশপুতে ফেলার অভিযোগ উঠেছে মো. সাব্বির হোসেন(১৫) নামের এক বখাটে ছেলের বিরুদ্ধে। সকালেই অভিযুক্তের মা ও ভাইকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল ১০টায় শহরের পাঠানবাড়ি এলাকার জিবি টাওয়ারের পাশে পরিত্যক্ত খালি জায়গা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।
উপরের ঘটনা ভাল করে খেয়াল করলে আমরা দেখতে পাই, ভিকটিম কিশোরের বয়স ১৩ আর ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোরের বয়স ১৫। আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, হত্যার পরে লাশ পরিত্যক্ত স্থানে মাটির নীচে পুঁতে রাখার কর্মটিও করেছে ওই অভিযুক্ত কিশোর। কী পরিমাণ মানসিক শক্তি বা অপরাধী মন হলে মানুষ হত্যার মতো এতোবড় একটি অপরাধের পরে লাশ মাটিতে পুঁতে ফেলতে পারে এক কিশোর!
শিশু-কিশোরদের এ ধরনের অপরাধ প্রবণতা বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখে থাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিছুদিন আগে রাজধানীর উত্তরায় ‘কিশোর গ্যাং’ এর দ্বন্দ্বে এক কিশোর নিহতের ঘটনা বেশ তোলপাড় করেছিল দেশজুড়ে। এছাড়া রাজধানীর ভাষানটেকে এক প্রাথমিক স্কুল শিক্ষার্থী ধর্ষণের শিকার হয়েছিল, যার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল অভিযুক্ত এক কিশোরকে। এসব সরাসরি অপরাধ কর্মে জড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক শিশু-কিশোর আত্মহননের পথও বেছে নিচ্ছে। বাবা-মার গালমন্দ সইতে না পেরে বা পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল না করতে পেরে তারা আত্মহত্যা করছে। সম্প্রতি রাজধানীতে অরিত্রী’র আত্মহত্যা একটি বড় উদাহরণ।
শিশু-কিশোরদের মনোজগতে আসলে কী চলছে? কেন তারা সহিংস ও আত্মঘাতী হয়ে উঠছে?
অপরাধ ও সমাজ বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, পারিবারিক বন্ধনের শিথিলতা, পারিবারিক অনুশাসনহীনতা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের অংশগ্রহণহীনতা ও ইন্টারনেট/গেমসের অপব্যবহারের ফলে এমন অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিষয়গুলো ভেবে দেখে পদক্ষেপ নেয়া খুবই জরুরি বলে আমরা মনে করি। শুধু কোনো ঘটনার পরে সচেতন হওয়া আর কিছুদিন পরে ভুলে না গিয়ে রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও পারিবারিকভাবে আলাদা আলাদা কর্মপরিকল্পনাও থাকা জরুরি। ভবিষ্যত প্রজন্মের প্রতি যত্নবান না হলে নেতৃত্ব শূন্যতা তৈরি হওয়া এবং সামাজিক-রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়ে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি হবে, তা সামাল দেয়া কঠিন হবে। এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখে সংশ্লিষ্টরা যথাযথ উদ্যোগী হবেন বলে আমাদের আশাবাদ।







