২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লক্ষাধিক শিক্ষার্থীকে পরিচালনার দায়িত্বভার পড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর। তারপরে থেকে বিভিন্ন সময়ে ওইসব শিক্ষার্থীদের নানা দাবি আর আন্দোলনে উত্তাল হচ্ছে রাজধানীর রাজপথ।
আজ ২৪ এপ্রিল ৫ দফা দাবিতে রাজধানীর নীলক্ষেত মোড়ে সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করে অধিভুক্ত ৭ কলেজের শিক্ষার্থীরা। বরাবরের মতো যানজট তৈরি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ আশেপাশের এলাকায়।
২০১৫-১৬ সেশনের স্নাতকোত্তর পর্বের চূড়ান্ত পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত সোমবার। তবে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি, কেন হয়নি? এই জবাব শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ক্যাম্পাস, ওয়েবসাইট—কোথাও উত্তর না পেয়েই আন্দোলনে নেমে এসেছে। এছাড়া ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়েছে মাস সাতেক আগে। এখনও ওই পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়নি। কবে হবে, সে প্রশ্নেরও উত্তর নেই। এরকম নানা যৌক্তিক বিষয় নিয়ে পথে নেমে এসেছে শিক্ষার্থীরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর গোলাম রাব্বানী আন্দোলনকারীদের সাথে কথা বলেছেন আজকে। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রক্টর বেশকিছু আশ্বাসও দিয়েছেন, তারপরেই শিক্ষার্থীরা রাজপথ ছেড়ে দেয়। কিন্তু ততক্ষণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যানজট বিরাট আকার ধারণ করে।
শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রশ্নের জবাব দেবার দায়িত্ব জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিতে হবে বলে আমরা মনে করি। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বড় দায়িত্ব রয়েছে বিষয়গুলো তদারকি করার। ঘনঘন এধরণের আন্দোলন পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এছাড়া আন্দোলনের নামে কোনো ধরণের নাগরিক ভোগান্তি এবং পরিকল্পিত নাশকতাও যেন না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
আমাদের আশাবাদ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলোর গুরুত্ব পর্যালোচনা করে কার্যকর সমাধানে মনোযোগী হবেন।










