বছরের পর বছর ধরে বিশালদেহী আফ্রিকান হাতিরা তাদের ঝকঝকে দাঁতের জন্য শিকারী ও পাচারকারীদের শিকার হয়ে আসছে। এর ফলস্বরূপ যেন নিজেদের বাঁচাতেই দাঁত ছাড়াই জন্ম নিচ্ছে এই প্রজাতির বেশকিছু হাতি। আর এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই।
শিকারীদের যন্ত্রণায় হাতিগুলোর জিনে মৌলিক পরিবর্তন চলে আসছে বলেই এমনটা ঘটছে বলে মনে করছেন গবেষকরা।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আফ্রিকা মহাদেশের কিছু কিছু এলাকায় মোটামুটি ৯৮ শতাংশ মাদী হাতিরই দাঁত নেই। যেখানে দুয়েক দশক আগেও গড়ে মাত্র ২ থেকে ৬ শতাংশ হাতির জন্ম হতো দাঁত ছাড়া।
এশিয়া, বিশেষ করে চীনে হাতির দাঁতের চাহিদা মেটাতে গত ১০ বছরে আফ্রিকার মোট হাতির প্রায় তিন ভাগের এক ভাগই বেআইনিভাবে হত্যা করা হয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে প্রায় ১ লাখ ৪৪ হাজার আফ্রিকান হাতি হত্যার কারণে প্রজাতিটি কোনো কোনো অঞ্চলে বিলুপ্তির কোঠায় চলে গেছে। আর যেগুলো বেঁচে যাচ্ছে, থাকছে দন্তবিহীন, এশিয়ান হাতির প্রজাতির মতোই।
হাতি নিয়ে কাজ করা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এলিফ্যান্ট ভয়েসেস-এর প্রধান জয়েস পুল গত ৩০ বছর ধরে আফ্রিকান হাতির প্রজাতিটির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করে আসছেন। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টাইমস’কে তিনি জানান, হাতি শিকারের প্রাবল্য এবং দাঁত ছাড়া মাদী হাতি জন্মের হারের মধ্যে সরাসরি সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন তিনি।
জয়েস জানান, মোজাম্বিকের গোরোঙ্গোসা ন্যাশনাল পার্কে ১৯৭৭ থেকে ১৯৯২ সালের মধ্যে ৯০ শতাংশ হাতিকে মেরে ফেলা হয়েছিল। যেহেতু শিকারীরা নির্বিচারে বড় দাঁতওয়ালা প্রাণীদের হত্যা করছিল, সেহেতু সেই সময়কালে জন্ম নেয়া বর্তমানে ৩৫ বছর বা তার বেশি বয়সের মাদী হাতিগুলোর প্রায় অর্ধেকেরই একটাও দাঁত নেই।
এখন যদিও এলাকাটিতে হাতি শিকার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে এবং হাতির প্রজাতিটি আবার সংখ্যায় বাড়ছে, দাঁত ছাড়া জন্ম নেয়া আগের ওই হাতিগুলো তাদের জিন মেয়ে সন্তানদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিচ্ছে। যার প্রমাণ হচ্ছে: যুদ্ধের পর থেকে জন্ম নেয়া ৩০ শতাংশ মাদী হাতির দাঁত নেই। দাঁত ছাড়া জন্ম নেয়া হাতিদের গর্ভেই দাঁত ছাড়া শিশু জন্মানোর সম্ভাবনা বেশি বলে জানিয়েছেন জয়েস পুল।








