এ বছর নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করলেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস। নরওয়ের রাজধানী অসলোতে আজ ২০১৬ সালের বিজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। ফার্ক গেরিলা গোষ্ঠির সাথে কলম্বিয়ার দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা গৃহযুদ্ধের ইতি টানতে ভূমিকার জন্য তাকে এই পুরস্কার দেয়া হয়।
বামপন্থি বিদ্রোহীদের সাথে ৫২ বছর ধরে সংঘাত চলছিলো কলম্বিয়া সরকারের। এই সংঘাতে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষ নিহত হয়। এছাড়াও অাভ্যন্তরিণভাবে বাস্তুচ্যুত হয় প্রায় ৬০ লাখ অধিবাসী।
ফার্ক বিদ্রোহীদের সাথে শান্তি চুক্তি করার জন্য নরওয়ের নোবেল কমিটি সান্তোসের প্রশংসা করেন। চার বছর ব্যাপি দীর্ঘ আলোচনার পর গত মাসে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। যদিও গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে কলম্বিয়ার জনগণ খুব সামান্য ভোটের ব্যবধানে এই চুক্তি প্রত্যাখান করে।
চুক্তির বিপক্ষে ৫০.২ শতাংশ ভোট পড়লেও বিদ্রোহীদের সাথে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গিকার করেছেন সান্তোস। বিরোধীদের দাবি চুক্তিটি বিদ্রোহীদের প্রতি অতিমাত্রায় সহনশীল, এদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট আলভারো উরাইব।
নোবেল কমিটির চ্যায়ারওম্যান ক্যাসি কালম্যান ফাইভ পুরস্কার ঘোষণা করে বলেন, “নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি কলম্বিয়ান প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোসকে ২০১৬-এর নোবেল শাস্তি পুরস্কার প্রদানের সীদ্ধান্ত নিয়েছে। ৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা দেশটির গৃহযুদ্ধে ইতি টানতে তার দৃড় প্রয়াসের জন্য এই সিদ্ধান্ত।”
৩৭৬ জন প্রার্থীর মধ্যে সান্তোস এই সম্মানে ভূষিত হলেন। প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ২২৮জন ব্যক্তি এবং ১৪৮টি সংস্থা ছিলো।
যুদ্ধবিদ্ধস্ত সিরিয়ায় ধ্বংসস্তুত থেকে উদ্ধার কাজ চালানো হোয়াইট হেলমেট এবং ইরানের পরমানু চুক্তির পেছনের আলোচকরাও ছিলেন এবারের নোবেল প্রাপ্তির সম্ভাব্য তালিকায়। ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গত বছর এই পুরস্কার পেয়েছিলো তিউনিসিয়ান ন্যাশোনাল ডায়ালগ কোয়ার্টেট। তিউনিসিয়ার গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে জোড়ালো ভূমিকার জন্য এই স্বীকৃতি পেয়েছিলো গোষ্ঠিটি।








