গুসি শান্তি পুরস্কার ভূষিত কৃষি উন্নয়ন ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিভিন্ন জেলার কৃষকরা। সোমবার দুপুরে চ্যানেল আই ভবনে শাইখ সিরাজের সঙ্গে দেখা করতে আসেন তারা।
শুভেচ্ছা জানাতে এসে কৃষকরা শাইখ সিরাজকে নিজেদের উৎপাদিত ফল ও সবজি উপহার দেন। তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন শাইখ সিরাজ।
বেশিরভাগ কৃষক এসেছিলেন পাবনার ঈশ্বরদী থেকে। এছাড়া বগুড়া, জামালপুর এবং কুষ্টিয়া থেকেও কৃষকরা অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন।
কৃষিতে অবদানের জন্য জাতীয় ও বঙ্গবন্ধু পদকপ্রাপ্ত কৃষক সিদ্দিকুর রহমান (কুল ময়েজ) চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘সরকারি সহযোগিতায় অনেকেই অনেক কিছু করার সুযোগ পান। কিন্তু বেসরকারিভাবে সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টা ও কর্মদক্ষতা দিয়ে বাংলাদেশের জন্য গুসি শান্তি পুরস্কারের মতো সম্মাননা বয়ে এনেছেন শাইখ সিরাজ স্যার। এটি বিশাল ব্যাপার।’
তিনি বলেন, ‘পৃথিবীতে তিন ধরণের পুরুষ আছেন। উত্তম পুরুষ, যিনি নিজের চেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হন; মধ্যম পুরুষ, যিনি পিতার পরিচয়ে পরিচিত হন; আর নিম্ন পুরুষ, যিনি পরিচিতের পরিচয়ে পরিচিত। শাইখ সিরাজ একজন উত্তম পুরুষ।’
লিচু কিতাব নামে পরিচিত পাবনার ঈশ্বরদীর কৃষক কিতাব বলেন, ‘বাংলাদেশে নতুন যত কৃষি পদ্ধতি বা পণ্য আসে, পাবনার কৃষকরাই সেসব আগে পরীক্ষা করে দেখেন। বাংলাদেশে ব্রকোলি, বাউকুল, স্ট্রবেরি, ড্রাগন ফল পাবনাতেই আগে উৎপাদিত হয়েছে। শাইখ সিরাজের দেখানো নতুন নতুন পদ্ধতি ও পরামর্শ তারা অনুসরণ করেন এবং পরীক্ষা করে ফলাফল তুলে ধরেন। এসব ব্যাপারে স্যার আমাদের সাহায্য করেন।’ পাবনার অন্যান্য কৃষকরাও একই কথা বলেন।
বগুড়ার বাউকুল চাষী মাহবুব হাসান বলেন, ‘শাইখ সিরাজ স্যারের অনুষ্ঠানে দেওয়া বিভিন্ন পরামর্শ আমরা অনুসরণ করি। এছাড়াও কৃষির ব্যাপারে সবদিক থেকেই প্রয়োজন অনুসারে স্যার আমাদের সাহায্য করেন। তার এই পুরস্কার প্রাপ্তিতে তাই আমরা খুব খুশি।’
একইভাবে শাইখ সিরাজের গুসি পুরস্কার প্রাপ্তিতে অভিনন্দন ও কৃষিকাজে তার সহায়তা এবং পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করেন দেখা করতে আসা কৃষকরা।
গত ২৫ নভেম্বর বিশ্বের ১৯ কীর্তিমানের সঙ্গে বাংলাদেশের উন্নয়ন সাংবাদিক শাইখ সিরাজ গুসি শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। টেলিভিশনে তিন দশকেরও বেশি সময় উন্নয়ন সাংবাদিকতা ও দারিদ্র্য দুরীকরণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ফিলিপিনসের ‘গুসি পিস প্রাইজ ফাউন্ডেশন’ তাকে এই পুরস্কার প্রদান করে। দারিদ্র্য দূর করে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালানোর অঙ্গীকার করেছেন পদকপ্রাপ্তরা।







