দেশের ২২তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিয়েছেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। শনিবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে তাকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।
শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিগণ, উচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীসহ সরকারের পদস্থ বেসামরিক-সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
শুক্রবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। এরপর তা প্রজ্ঞাপন আকারে প্রকাশ করে আইন মন্ত্রণালয়।
বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পরপরই পদত্যাগ করেন আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা। শুক্রবার সন্ধ্যায় বিচারপতি ওয়াহহাব মিঞা বঙ্গভবনে তার পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন।
বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন ২০০১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারপতি হন। আর ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তিনি একই বিভাগে স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এর পর ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান।
সৈয়দ মাহমুদ হোসেন দুইবার নির্বাচন কমিশন গঠনের জন্য করা সার্চ কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্ব পালন করেন।
আপিল বিভাগের পাঁচজন বিচারপতির মধ্যে মো. আবদুল ওয়াহহাব মিঞা সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ । জ্যেষ্ঠতা বিবেচনায় তার পরেই ছিলেন বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। আর এর পরে পর্যায়ক্রমে রয়েছেন বিচারপতি মো. ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

বয়সসীমা অনুযায়ী বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্হাব মিয়ার দায়িত্বপালনের সময়সীমা ২০১৮ সালের ১০ নভেম্বর পর্যন্ত। আর বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সময়সীমা ২০২১ সাল পর্যন্ত। বিচারপতি মো.ইমান আলী অবসরে যাবেন ২০২২ সালে। আর বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর অবসরের তারিখ ২০২৩ সাল এবং বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার অবসরে যাবেন ২০২১ সালে।
এর আগে দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা পদত্যাগ করেন। প্রধান বিচারপতি হিসেবে তার দায়িত্ব পালনের মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।








