জাতিসংঘের ৭২ তম অধিবেশন উপলক্ষে টানা ২০ দিনের সফর শেষে শনিবার দেশে ফিরছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। লন্ডন থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে সিলেট বিমানবন্দর হয়ে ঢাকা পৌঁছাবেন তিনি। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
এই সফরে তিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভাষণ প্রদাণ করেন। যা অধিবেশন শুরুর আগে থেকেই ছিল আলোচনায়। বিশ্বনেতাদের সকলের আগ্রহ ছিল রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কী বলবেন আর সমাধানেরই বা কী পথ দেখাবেন।
শেখ হাসিনা তার ভাষণে মিয়ানমার থেকে সেনা নিপীড়নের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দুঃখ- দুর্দশার চিত্র তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিরসনে বাস্তব সম্মত ৫ দফা প্রস্তাব বিশ্বের সামনে তুলে ধরেন। যা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে শুরু করে সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্যাতনের শিকার রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো এবং বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশংসা করেন বিশ্ব নেতারা। রাষ্ট্রনেতার নেতৃত্বগুণের পাশাপাশি মানবিকতার পরিচয় দিয়ে এরই মধ্যে তিনি অর্জন করে নিয়েছেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’ উপাধি।
সাধারণ পরিষদে ভাষণের পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্টনিও গুতেরেস সহ বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান এবং রাষ্ট্রনেতাদের সঙ্গে দ্বি-পক্ষীয় বৈঠক করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তাদের রোহিঙ্গা সংকট পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গাদের দুর্দশার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া দৃঢ় কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে ২৮ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠকে বসে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে ৯ সদস্যের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য-ফ্রান্সসহ ৭ সদস্যই রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের অবস্থানকে সমর্থন করে বক্তব্য দেয়।
এসময় যুক্তরাজ্য মিয়ানমারের কাছে অস্ত্র বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানায়। যুক্তরাষ্ট্রও মিয়ানমারকে সংযত হতে কঠোর ভাষা উচ্চারণ করে। শুধু চীন ও রাশিয়া সরাসরি মিয়ানমারের বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া থেকে বিরত থাকে। তবে তারা বাংলাদেশ-মিয়ানমার দুই সরকারের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পক্ষে মত দেয়।
নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক থেকে কোন নির্দিষ্ট প্রস্তাবনা কিংবা যৌথ বিবৃতি না আসলেও শেখ হাসিনার কূটনৈতিক সফলতা এখন দৃশ্যমান। কেননা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে আলোচনা শুরু করার জন্য ঢাকা সফরে এসেছেন মিয়ানমার স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চির দপ্তরের মন্ত্রী টিন্ট সোয়ে। রোহিঙ্গারা যেন স্বদেশে ফিরে যেতে পারে; সেজন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ ওয়ার্কিং কমিটি করার সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠকে।
সবমিলিয়ে জাতিসংঘে শেখ হাসিনার এবারের উপস্থিতি অন্য যেকোন বারের চেয়ে তুলনায় ছিল অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি তিনি তার সহজাত নেতৃত্বগুণে সফল ভাবে সম্পন্ন করেছেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের এ সফল্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণসংবর্ধনা দেয়ার সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে আওয়ামী লীগ।
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ২১ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানকার কর্মসূচি শেষে ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক থেকে ভার্জিনিয়ায় যান তিনি। সেখানে ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও তার পরিবারের সঙ্গে এক সপ্তাহ কাটানো শেষে পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ২৯ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা হয়ে লন্ডনে যাওয়ার কথা ছিল। লন্ডন আওয়ামী লীগের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরে আসার কথা ছিল।
কিন্তু হঠাৎ পেটে ব্যথা অনুভব করায় তাকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে-গলব্লাডারে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। ২৫ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় রাত ৮টায় সফল অস্ত্রোপচার হয় তার।







