অনেক হিসেব-নিকেষ আর শঙ্কা মেলাতে হচ্ছে রোহিঙ্গা ইস্যু শুরু হবার পর থেকেই। বানের জলের মতো যে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে আসছে তাদের কি ফেরত পাঠানো যাবে, গেলে কীভাবে যাবে? এরকম নানা প্রশ্ন সাধারণ জনগণসহ রাজনৈতিক-আন্তর্জাতিক মহলে। এসব কিছুর মধ্যে আশার কথা বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে। সমঝোতা পত্রে ‘অ্যারেঞ্জমেন্ট’ শব্দ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। অনেক রাজনৈতিক ও কূটনীতিক বিশেষজ্ঞ নানা শঙ্কা দেখছেন বিষয়টিতে। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিষয়টির ব্যাখ্যায় বলেছেন, ‘এমওইউ কিংবা অ্যারেঞ্জমেন্ট শব্দে কিছু যায় আসে না, বাংলাতে এটাকে চুক্তিই বলে।’ ২৫ আগষ্টের পর রোহিঙ্গাদের নিয়ে যে পরিস্থিতি সারাদেশের জনগণকে চিন্তিত করে তুলেছিল, এই সমঝোতার পরে তা কিছুটা দূর হয়েছে বলে আমরা মনে করি। সমঝোতা চুক্তি মোতাবেক, আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জয়েন্ট ওয়ার্কি গ্রুপ গঠন করা হবে এবং এই গ্রুপের মাধ্যমে দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। একটি যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন করা হবে। এই যাচাইয়ে জটিলতা দেখা দিলে দু’ দেশ আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করবে। বিষয়টি আমরা ইতিবাচক হিসেবে ভেবে আশাবাদি হতেই পারি। কারণ রোহিঙ্গা ইস্যুটি শুধুমাত্র আমাদের দেশের চিন্তার কারণ না, এই চিন্তায় সামিল হয়েছে খোদ জাতিসংঘ থেকে শুরু করে বিশ্বের বিভিন্ন দায়িত্বশীল ও মানবিক রাষ্ট্র। রোহিঙ্গা ইস্যু সরকার-বিরোধী দলের মধ্যে কোনো দেশীয় রাজনৈতিক ইস্যু না, এই বিষয়টি উপলব্ধি করে সবার শক্তি-সামর্থ্য ও যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে এই আলোচিত ইস্যু সমাধান হোক, এই আমাদের প্রত্যাশা।







