এশিয়ার শকুন রক্ষায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গিকার নিয়ে নেপালের রাজধানী কাঠমুণ্ডুতে শেষ হয়েছে বার্ষিক সম্মেলন । সেভ এশিয়ান ভালচার ফ্রম এক্সটিনশন- সেভ এর সম্মেলনে সব দেশে কিটোপ্রফেন নিষিদ্ধ ও ডাইক্লোফেনের ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধের দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ার প্রতিনিধিরা ।
উপকারি প্রাণী শকুনের বাস এশিয়ায় ৫ দেশে । বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও কম্বোডিয়ায় এখন বাংলা শকুনের সংখ্যা দশ হাজারের নীচে নেমে এসেছে । বাংলাদেশে সংখ্যা কমে আড়াইশ’। এই প্রজাতিটি বিলুপ্তির সামনে দাঁড়িয়ে আছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিনিধিরা।
শকুনের এই দুর্দিনে কিছুটা সুখববর শকুন রক্ষার তাগিদ দেয়া সেভ এর পঞ্চম বার্ষিক সম্মেলনে । শকুন রক্ষায় পাঁচ দেশের রিপোর্টে উঠে এসেছে ভারত ও নেপালে শকুনের বংশবৃদ্ধির তথ্য। অন্য তিনদেশে হতাশার চিত্র উঠে এলেও সম্মেলনে বাংলাদেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে ৬ মাসের মধ্যে কিটোপ্রফেন নিষিদ্ধের আশ্বাস আর শকুনের নিরাপদ আবাসস্থল ঘোষণা করে ।
সেভের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ক্রিস বৌডেন বলেন, বাংলাদেশের পদক্ষেপ প্রতিবেশি দেশগুলোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা তাদের জন্য একটা উদাহরণও। তবে এই ইতিবাচক খবরের সঙ্গে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহিৃত হয়েছে পাঁচ দেশেই শকুনের মৃত্যুর জন্য দায়ী ডাইক্লোফেন নিষিদ্ধ হলেও ব্যবহার বন্ধ হয়নি। নিষিদ্ধ হয়নি কিটোপ্রফেন।
সেভের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডেভিড হিউস্টন বলেন, শকুনের নিরাপদ আবাসস্থল হিসেবে বাংলাদেশ অন্যতম স্থান। বাংলাদেশ থেকে যোগ দেয়া প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মুকিত মজুমদার বাবুল বলেন, বাংলাদেশে ডাইক্লোফেনাকের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কিন্তু অবৈধভাবে এখনো ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ডাইক্লোফেনাকের কারণে কিডনি নষ্ট হয়ে শকুন মারা যায়।
দেশে দেশে শকুনের জন্য নিরাপদ খাবার সংকট, অনিরাপদ আবাসস্থল ও শকুন রক্ষায় অর্থের সমস্যায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে এ সম্মেলনে ।







