চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয়দিন মিলে গেল ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালের সঙ্গে। অন্যরা যাওয়া-আসা করছেন। রিয়াদ চেয়ে চেয়ে দেখছেন। এমন দিনে টেস্ট ক্যারিয়ারে দুই হাজার রানের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। অলআউট হওয়ার সময় অপরাজিত ছিলেন ৮৩ রানে। সেই সঙ্গে প্রথম ইনিংসে দলকে নিয়ে গেছেন ৫১৩তে।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্টে বাংলাদেশের এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০১৩ সালে গল টেস্টে ৬৩৮ করেছিলেন মুশফিকরা। সেটিই এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
রিয়াদ ৬৭ ইনিংসে টেস্টে দুই হাজার রান করলেন। আগের দিন মুমিনুলও দুই হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বাংলাদেশিদের মধ্যে মুমিনুল সবচেয়ে কম সময়ে দুহাজার রান করেছেন, ৪৭ ইনিংসে। ৫৩ ইনিংসে করেছিলেন তামিম। রিয়াদ এদিন ১৩৪ বল খেলে অপরাজিত থাকেন। এর মধ্যে চার সাতটি। ছয় দুটি।
মুমিনুল হককে নিয়ে দিন শুরু করেন রিয়াদ। আগের দিনের ১৭৫’র সঙ্গে এক রান যোগ করে বিদায় নেন মুমিনুল। পরে রিয়াদ একে একে ফিরে যেতে দেখেন মোসাদ্দেক (৮), মিরাজ (২০), সাঞ্জামুল (২৪), তাইজুলকে (১) এবং মোস্তাফিজকে (৮)।
আগের দিন ২০৩ বল খেলা মুমিনুল দ্বিতীয়দিন খেলতে পারেন ১১ বল। লেগস্টাম্প বরাবর রঙ্গনা হেরাথের ঝুলিয়ে দেয়া বলে স্কোরিং শট খেলতে গিয়ে ফরোয়ার্ড শর্টলেগে ক্যাচ দেন।
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৫১৩
(মুমিনুল ১৭৬, মুশফিক ৯২, মাহমুদউল্লাহ ৮৩* তামিম ৫২, ইমরুল ৪০, সাঞ্জামুল ২৪; লাকমাল ৩/৬৮, হেরাথ ৩/১৫০, সান্দাকান ২/৯২, দিলরুয়ান ১/১১২।)।
সময়ের সঙ্গে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটের রূপ বদলাচ্ছে। স্পিনাররা টার্ন পাচ্ছেন। মুমিনুল ফিরে যাওয়ার পর সংগ্রাম করতে হয়েছে মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে। সুরাঙ্গা লাকমালের বল কোনোটি নিচু হয়েছে। কোনোটি লাফিয়েছে। অন্যপ্রান্ত থেকে বার বার একই জায়গায় বল করে চাপ বাড়িয়ে গেছেন হেরাথ।
মোসাদ্দেক উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন মিডঅনে। দিনের প্রথম সেশনের দ্বিতীয় ঘণ্টায় আক্ষেপ হয়ে থেকেছে মিরাজের রানআউট। দারুণ ব্যাট করতে থাকা এ ডানহাতি মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে তৃতীয় রান নিতে গিয়ে কাটা পড়েন। দুই রান নিয়েছিলেন খুব সহজে। ফিল্ডারের হাত থেকে থ্রো আসতে যতটুকু সময় লাগে। নিজেই কল করে সেই সময়ের মধ্যে পৌঁছাতে পারেননি অল্পের জন্য। দর্শনীয় একটি স্ট্রেইট ড্রাইভে চার ও একটি ছক্কায় ১৯ বলে ২০ রান করে ফেরেন।
আগেরদিন তামিম-ইমরুল ৭২ রানের জুটি গড়ার পর মুশফিক-মুমিনুল ২৩৬ রানের জুটি গড়েন। তৃতীয় উইকেটে বাংলাদেশের এটি সর্বোচ্চ রান। যে কোনো উইকেটে চতুর্থ সর্বোচ্চ।
দ্বিতীয়দিনের দুই সেশন দেখে বোঝা গেছে সময় যত গড়াবে স্পিনাররা ততই রাজত্ব করবেন এই পিচে। বাংলাদেশ দলে তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনার। স্পিন-অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের সঙ্গে আছেন তাইজুল ইসলাম। তাদের সঙ্গী সানজামুল।







