২০০৭ সালে ওয়েস্ট হ্যাম থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেন কার্লোস তেভেজ। আসা যাওয়ার জন্য এ আর্জেন্টাইনের সম্বল তখন ক্লাবের দেয়া এক অডি গাড়ি। যা নিয়ে হাসি ঠাট্টাও শুনতে হয়েছে ক্লাব সতীর্থদের থেকে। লজ্জা হতে বাঁচাতে তখন এগিয়ে এসেছিলেন ওয়েন রুনি। তেভেজকে দিয়েছিলেন নিজের ল্যাম্বোরগিনি গাড়িও!
১২ বছর পর ইএসপিএন আর্জেন্টিনাকে সাক্ষাৎকার দেয়ার সময় ম্যানইউকে ঘিরে গল্পের ঝাঁপি খুলে বসেছিলেন তেভেজ। সেখানেই নিজের সাবেক রেড ডেভিল সতীর্থ রুনির প্রশংসা করেন আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড।
ম্যানইউতে আসার আগের মৌসুমে ওয়েস্ট হ্যাম পৌঁছে গিয়েছিল অবনমনের একদম শেষ পর্যায়ে। লিগের শেষ ম্যাচ ম্যানইউকে তাদের মাঠেই হারিয়ে অবনমন ঠেকিয়ে দেয় ওয়েস্ট হ্যাম। সেই খেলায় তেভেজকে মনে ধরেছিল তৎকালীন কোচ স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের। পরের মৌসুমেই নিয়ে আসেন ওল্ড ট্রাফোর্ডে।
ওল্ড ট্রাফোর্ডে আসার পর ইউরোপিয়ান আর সাউথ আমেরিকান ফুটবলের পার্থক্য বুঝতে পারেন বোকা জুনিয়র্সের হয়ে মাঠ মাতানো তেভেজ। সেই সময়টা কাটিয়ে উঠতে রুনি তাকে অনেক সাহায্য করেছেন বলে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
‘বোকাতে এক পেনাল্টি মিস করে বসলে পারলে সবাই আমাকে মেরে ফেলে। কিন্তু ইউনাইটেডে এমনটা কখনো হয়নি।’
‘এই দলের সবচেয়ে খারাপ খেলোয়াড়ও মাঠে ফেরারি চালিয়ে আসতো। ক্লাবের দেয়া অডি গাড়ি চালিয়ে আমি মাঠে যেতাম আর তাতে সবাই হাসাহাসি করতো।’
‘এই অবস্থা দেখে রুনি আমাকে বলেছিল, আমার ল্যাম্বোরগিনিটা নিয়ে যাও। তার বাসা থেকে সেই গাড়িটা নিয়ে এসেছিলাম। গাড়িটা আমার কাছে ১০ দিনের মতো ছিল।’
রুনির মাঝে নিজের অনেক মিলও খুঁজে পেতেন তেভেজ, ‘রুনির মাঝে আমার অনেককিছুই খুঁজে পেতাম। ও লিভারপুলের দরিদ্র এক এলাকা থেকে উঠে এসেছিল এবং বলের দখল পাওয়ার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যেত।’
দুই মৌসুম ইউনাইটেডের হয়ে খেলার পর ২০০৯ সালে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানসিটিতে নাম লেখান তেভেজ। ওই দুই মৌসুমে দুটি লিগ, একটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও একটি ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন আর্জেন্টিনার সাবেক ফরোয়ার্ড।







