পুলিশ হেফাজতে থাকা এক ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে (মোবাইল কোর্ট) সাজা দেওয়ার ঘটনায় লোহাগাড়া থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মো: শাহজাহানকে অন্তত বদলির নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি সৈয়দ মো. দস্তগীর হোসেন ও বিচারপতি মো. আতাউর রহমান খানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই আদেশ দেন।
সেই সঙ্গে ওই ঘটনার জন্য নিঃশর্ত ক্ষমায় চাওয়ায় লোহাগাড়ার এইউএনও, ওসি এবং ওই থানার এসআই হেলাল খান ও এএসআই ওয়াসিম মিয়াকে ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। তবে রিটের পর হাইকোর্ট যে রুল জারি করেছেন তার শুনানি চলবে বলে জানিয়েছেন রিটকারি আইনজীবী।
আজ আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। আর এইউএনও এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ ও আইনজীবী ফারজানা শারমিন।
এর আগে গতকাল এই রিটের শুনানি শুরু হলে হাইকোর্ট প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘১৩ তারিখে যদি একজন মানুষ এরেস্ট হয়ে কাস্টডিতে (পুলিশ হেফাজতে) থাকে; তাহলে তাকে ১৪ তারিখ মোবাইল কোর্ট সাজা দেয় কীভাবে? ১৪ তারিখ যে ম্যাজিস্ট্রেট সাজা দিল সে কি ব্লাইন্ড (অন্ধ) ছিল নাকি?’
ওই সময় রিটের পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ এসময় আদালতকে বলেন, ‘কিছু লোকের এধরনের অপকর্মের কারণে মোবাইল কোর্ট পপুলারিটি (জনপ্রিয়তা) হারিয়েছে।’
এরপর এইউএনও এবং পুলিশ কর্মকর্তাদের পক্ষের আইনজীবী সম্পূরক আবেদন করার জন্য সময় আবেদন করলে আদালত এবিষয়ে শুনানি ও আদেশের জন্য সোমবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে রোববার সকালেই আদালত কক্ষে হাজির হন, লোহাগাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মাহবুব আলম, স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান এবং ওই থানার এসআই হেলাল খান ও এএসআই ওয়াসিম মিয়া।
এর আগে ফৌজদারি মামলায় ‘পুলিশ হেফাজতে থাকা’ ব্যক্তিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার অভিযোগ বিষয়ে ব্যাখ্যা জানাতে লোহাগাড়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট) মাহবুব আলম, স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান ও ওই থানার এসআই হেলাল খান ও এএসআই ওয়াসিম মিয়াকে ২৮ জানুয়ারি হাইকোর্টে হাজির হতে বলেন।
সেই সঙ্গে ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতের দেয়া সাজা সাজানো বলে কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না এবং যারা ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছেন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা রুলে জানতে চাওয়া হয়।
সেইসঙ্গে রিট আবেদনকারীকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।
স্বরাষ্ট্রসচিব, লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, ওই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর রাত নয়টায় লোহাগাড়ার বেলাল নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন একটি ফৌজদারি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। পুলিশের জব্দ তালিকায় দেখা যায়, ১৩ অক্টোবর রাত নয়টায় বেলালের কাছ থেকে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
কিন্তু ইউএনও পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ১৪ অক্টোবর দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে দুই পুরিয়া গাঁজা উদ্ধারের ঘটনায় বেলালকে আট মাসের জেল দেন। এরপর ‘সাজানো’ ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিটটি করেন মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন।







